ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মতিঝিলে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে আজও তীব্র উত্তেজনা এবং আন্দোলন চলছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) দ্বিতীয় দিনের মতো ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে কয়েক শত গ্রাহক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৪ মে (ঈদের ছুটির ঠিক আগে) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
আন্দোলনকারীদের দাবি, তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের একজন সহযোগী ছিলেন। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তীব্র বিক্ষোভের মুখে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। ফলে এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্ত গ্রাহক ও ব্যাংক কর্মকর্তারা মানছেন না। এর আগে হঠাৎ করেই ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. জোবায়দুর রহমান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওমর ফারুক খান পদত্যাগ করেন। গ্রাহকরা সাবেক এমডিকে পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছেন।
আন্দোলনকারীরা এস আলম গ্রুপের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল আলমকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার এবং বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সকল সদস্যের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করছেন।
জানা গেছে, আন্দোলন ও বিক্ষোভের মুখে নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলম মঙ্গলবার প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি। বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যাংকের বোর্ড রুমে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। সশরীরে পর্ষদ সভা করতে না পেরে গতকাল গভীর রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ অনুমতি নিয়ে নতুন চেয়ারম্যান অনলাইনে একটি বোর্ড মিটিং করেন। সেখানে সাবেক এমডি ওমর ফারুক খানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে নতুন ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে আলতাফ হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে ব্যাংকের নিয়মিত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কেউ এই অনলাইন সভায় অংশ নেননি। ঢাকার প্রধান কার্যালয়ের পাশাপাশি সারাদেশের বিভিন্ন শাখার সামনেও গ্রাহক ফোরাম মানববন্ধন করছে। এর ফলে গতকাল থেকে বিভিন্ন শাখা থেকে আমানত তুলে নেওয়ার বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে গ্রাহকদের মাঝে।
মতিঝিল জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশিদ জানান, মতিঝিলের দিলকুশায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা সহিংসতা এড়াতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে সাঁজোয়া যান।