জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, তাপমাত্রা বাড়ানোর জলবায়ু পরিস্থিতি এল নিনোর একটি নতুন পর্যায় কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হতে পারে। বিষয়টি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইতোমধ্যেই চাপের মধ্যে থাকা পৃথিবীর তাপমাত্রা আরো বাড়িয়ে দেবে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ২০২৬ সালের বাকি সময় জুড়ে এই এল নিনো আরো শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিশ্বের বেশিরভাগ অংশে আরো চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি করবে।
বিভিন্ন দেশের আবহাওয়া সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি এই যাবৎকালের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনোতে পরিণত হতে পারে – যাকে একটি সম্ভাব্য ‘সুপার’ এল নিনো বলা যেতে পারে।
এল নিনোর সঠিক সময়কাল এবং তীব্রতা সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা বেশ কঠিন হতে পারে এবং বিজ্ঞানীরা এর সূত্র খুঁজে পেতে মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের একটি বিশেষ অঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
এল নিনো হচ্ছে প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া, যার ফলে মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় রেখায় অবস্থিত প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়। বিশ্বজুড়ে বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পর এল নিনো ফিরে আসে। এটি প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অফিসের মাসিক থেকে দশকীয় পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক অ্যাডাম স্কেইফ বলেছেন, “আমরা খুবই আত্মবিশ্বাসী যে একটি বড় ঘটনা ঘটতে চলেছে। এটি এমনকি একটি রেকর্ড সৃষ্টিকারী ঘটনাও হতে পারে।”
বিজ্ঞানীরা যে কারণে শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কা করছেন, তার একটি অংশ সমুদ্রপৃষ্ঠের অনেক গভীরে নিহিত রয়েছে।
স্যাটেলাইট, বয়া এবং সামুদ্রিক ভাসমান বস্তু থেকে প্রাপ্ত তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, অস্বাভাবিক উষ্ণ পানির একটি বিশাল ঢেউ—কিছু কিছু জায়গায় যা গড় তাপমাত্রার চেয়ে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি—প্রশান্ত মহাসাগরজুড়ে শত শত মিটার গভীর দিয়ে পূর্ব দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে।
মার্কিন বিজ্ঞান সংস্থা এনওএএ-এর ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টারের ভৌত বিজ্ঞানী মিশেল ল'হিউরেক্স বলেছেন, এই পানির উষ্ণতা “আমাদের এখন পর্যন্ত দেখা সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো ঘটনাগুলোর কয়েকটির প্রতিদ্বন্দ্বী।”