সারা বাংলা

বাগেরহাটে ময়নাতদন্ত ছাড়াই কুমিরের আক্রমণে নিহত ফাতেমার দাফন

বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) এর মাজারসংলগ্ন দিঘীতে কুমিরের আক্রমণে নিহত শিশু ফাতেমার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ময়নাতদন্ত ছাড়াই আজ মঙ্গলবার দুপুরে মাজারের পাশেই ফাতেমার জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে মাজারলংলগ্ন এলাকায় গণকবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

এর আগে সোমবার (১ জুন) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে খানজাহান আলী (রহ.) এর মাজারসংলগ্ন দিঘীর পূর্ব পাশে নারীদের ঘাটে গোসল করতে নামলে ফাতেমা আক্তারকে কুমির টেনে নিয়ে যায়। এরপর স্থানীয়রা দিঘীতে নৌকা নামিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, জেলা প্রশাসন উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। রাতভর উদ্ধার অভিযান শেষে মঙ্গলবার ভোরে ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করে খাদেম ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

ফাতেমার মা ভবঘুরে, মানসিক প্রতিবন্ধী। ফাতেমার মূল ঠিকানা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষ।

খানজাহান আলী (রহ.) এর মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তরিকুল ইসলাম বলেন, শিশুটি এই এলাকায়ই ঘুরে বেড়াত। তার মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত। জেলা প্রশাসনসহ সকলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাজারের পাশে স্থানীয় গণকবরে তার দাফন করা হয়েছে। ফাতেমার মা মানসিকভাবে অসুস্থ। সেও যাতে ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারে, তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, শিশুটিকে উদ্ধারের পরে ধর্মীয় নিয়মকানুন মেনে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। আর ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য আপতত কুমিরটিকে অন্য কোথাও স্থানান্তর করার কথা ভাবা হচ্ছে। খাঁচা বা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে পুনরায় কুমির আনা হবে। মাজারে স্থায়ীভাবে টুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলেও জানান তিনি। 

বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বলেন, মাজারে এ ধরনের ঘটনা মাজারের ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। মাজারের ঐতিহ্য ঠিক রেখে, এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেজন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে ঘাটে ফেন্সিং করা হবে বলে জানান তিনি। 

এর আগে গত ৮ এপ্রিল দিঘীর ঘাট থেকে কুমির একটি কুকুরকে টেনে নিয়ে যায়। সে সময়ের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়। জানা যায়, খানজাহান আলী (রহ.) এই দিঘী খনন করে এক জোড়া কুমির ছেড়েছিলেন। পরে তাদের মধ্যে পুরুষ কুমিরের নাম রাখেন কালাপাহাড় ও স্ত্রী কুমিরটার নাম রাখেন ধলাপাহাড়। তাদের সর্বশেষ বংশধরের মৃত্যু হয় ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে।  

এর আগে ২০০৫ সালে ভারত থেকে কয়েকটা কুমির এনে দিঘীতে ছাড়া হয়; কিন্তু এর কয়েকটা মারা যায়। সর্বশেষ যে দুটো ছিল তার একটা ২০২৩ সালের অক্টোবরে মারা যায়। এরপর থেকে দিঘীতে একটি কুমির রয়েছে।