জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) আঙুলের ছাপ না মেলার কারণে মোবাইল সিম নিবন্ধনসহ নানা সেবায় ভোগান্তিতে পড়ছেন নাগরিকরা। এতদিন এ সমস্যার সমাধানে ঢাকার নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে এসে অনাপত্তি সনদ (এনওসি) নিতে হতো সংশ্লিষ্ট নাগরিককে। ফলে ঢাকায় আসা-যাওয়াসহ নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হতো তাদের। এখন ভোগান্তি কমাতে মাঠ পর্যায়ের নির্বাচন অফিস থেকেই এ সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইসি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশের কিছু নাগরিকের আঙুলের ছাপ জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজের সঙ্গে মিলছে না। বিশেষ করে প্রবীণ ব্যক্তি এবং দীর্ঘদিন কৃষিকাজ, শ্রম বা পানিনির্ভর কাজে যুক্তদের ক্ষেত্রে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। ফলে সিম নিবন্ধনসহ বায়োমেট্রিক যাচাইভিত্তিক সেবায় তাদের জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।
বর্তমানে আঙুলের ছাপ না মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তার পরিচয় নিশ্চিত করে এনওসি নিতে হয়, যা ইসির এনআইডি অনুবিভাগ থেকে দেওয়া হয়। এতে অনেক নাগরিককে ঢাকায় এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, মাঠ পর্যায়ে সেবা না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা নাগরিকদের সময়, খরচ ও ভোগান্তি সবই বাড়ছে। বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য বিষয়টি আরো কষ্টকর হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এখন উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নির্বাচন অফিস থেকেই এনওসি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এ বিষয়ে নীতিগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রস্তাব চূড়ান্ত হলে স্থানীয় পর্যায় থেকেই সনদ দেওয়া সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির এনআইডি অনুবিভাগের সহকারী পরিচালক এবং নাগরিকদের এনওসি প্রদানের দায়িত্বে থাকা মুহা. সরওয়ার হোসেন বলেন, “গত বছর অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের বিধান চালুর পর থেকে এনওসির চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।”
তিনি জানান, অনেক ক্ষেত্রে নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল সিম ছাড়া অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া সম্ভব হয় না। কিন্তু আঙুলের ছাপের জটিলতার কারণে সিম নিবন্ধন করতে না পেরে অনেক নাগরিক ভোগান্তিতে পড়ছেন। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে মাঠ পর্যায়েই এনওসি সেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আঙুলের ছাপজনিত সমস্যায় মোট ২ হাজার ৭৮৮ জন এনওসি নিয়েছেন। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭০৮ জনে। প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে নাগরিকদের ঢাকামুখী হওয়া কমবে এবং স্থানীয় পর্যায়েই দ্রুত সেবা পাওয়া যাবে বলে আশা করছে নির্বাচন কমিশন।