মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার দোষরপাড়া গ্রামে অবস্থিত লালন সাঁই আশ্রমে (পদ্মহেম ধাম) হওয়া হামলায় এক ফটোসাংবাদিকসহ দুইজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আশ্রম প্রাঙ্গণে ঘটনাটি ঘটে।
আহতরা হলেন- পদ্মহেম ধামের সভাপতি ও প্রথম আলোর ফিচার ও নকশা বিভাগের প্রধান ফটোগ্রাফার কবির হোসেন ও তার ভাই তাকবির।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২১ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই আশ্রমে একদল ব্যক্তি হামলা চালায়। আশ্রমের দখলকে কেন্দ্র হামলার ঘটনা এমন অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দোষরপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর মাদবরের নেতৃত্বে হামলাটি সংঘটিত হয়।
হামলাকারীরা আশ্রমে প্রবেশ করে কবির হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় তার ভাই তাকবির বাউলও আহত হন। পরে লালন ভক্ত, আশ্রমের অনুসারী ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে কবির হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসক।
আহত কবির হোসেন বলেন, “গত ৬ মাস ধরে তারা আশ্রম উচ্ছেদ করার জন্য আমাকে কয়েকবার হুমকি দিয়েছে। আজ বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি জাহাঙ্গীর কিছু লোকজন নিয়ে আশ্রমে এসে আমাদের ওপর হামলা করে। দা দিয়ে কুপিয়ে আমার মাথায় গুরুতর জখম করে।”
তিনি বলেন, “আমি স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহকেও অনুরোধ করেছিলাম যে, এই লালনের আখড়া গত ২১ বছর আগে বিএনপির আমলেই স্থাপিত হয়েছিল। এখন কিছু লোক ঝামেলা করছে। তাই আপনি এটির বিহিত করে দিন। ইতোমধ্যে তারা আশ্রমে এসে হামলা করেছে।”
আটক জাহাঙ্গীর মাদবরের ভাই মোহসীন মাদবর বলেন, “কবির হোসেন আমাদের আত্মীয়। কিন্তু, তারপরেও তিনি লালন আখড়া স্থাপনের নামে আমাদেরসহ আশেপাশের অনেকের জায়গাজমি দখল করে নিয়েছেন। লালনের আখড়ায় গেট লাগিয়ে গ্রামের রাস্তায় বাধা দিয়ে রেখেছেন। এসব নিয়ে কিছুদিন ধরে তাদের সঙ্গে মতবিরোধ হচ্ছে।”
জমি নিয়ে সমস্যা হলে আদালতের দ্বারস্থ হবেন, আপনারা তাকে কুপিয়ে আহত করলেন কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আগে কবিরের ভাই হামলা করেছে। তারপর ঘটনাটি ঘটেছে। আমরা মামলার ভয় পাই না। কবিরকে বলেন ৫০টি মামলা দিতে।”
সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি, লালনের আখড়ার একখণ্ড জমি নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে দ্বন্দ্ব। সেটা নিয়ে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে কবির হোসেনের ওপর হামলা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম মাদবরকে আটক করেছে। তিনি বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি বলে আমরা শুনেছি। তবে, এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”