স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন ও বিধিমালায় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনি ব্যয় ও জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি, প্রার্থিতার শর্তে পরিবর্তন, প্রচারণার নতুন নিয়মসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে। আগামী ১৫ জুনের মধ্যে এসব পরিবর্তনের খসড়া জনমতের জন্য প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বুধবার(৩ জুন) ইসি সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা পর্যালোচনা করে সেগুলোকে আরো যুগোপযোগী ও জাতীয় নির্বাচনের বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার চেষ্টা চলছে। এ লক্ষ্যে গত কয়েক দিন ধরে কমিশনে ধারাবাহিক আলোচনা হয়েছে।
এরআগে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন ও বিধিমালা পর্যালোচনার কাজ চলছে। খসড়া প্রস্তুত হলে তা অংশীজন ও সাধারণ মানুষের মতামতের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। মতামত পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
কমিশনের আলোচনায় থাকা প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ভোটার সমর্থনের স্বাক্ষর সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা বাতিল করা। ইসির কর্মকর্তাদের মতে, নির্দলীয় নির্বাচনে এ শর্তের প্রয়োজনীয়তা কম। এর পরিবর্তে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
এছাড়া, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা আলাদা আচরণবিধির পরিবর্তে একটি সমন্বিত আচরণবিধি প্রণয়নের চিন্তাভাবনা করছে কমিশন। নির্বাচনি প্রচারণায় পোস্টারের ব্যবহার সীমিত বা নিষিদ্ধ করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের জন্য নতুন নির্দেশনা এবং বিলবোর্ড ব্যবহারের নিয়মও আলোচনায় আছে।
রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখার সুযোগ নেই বলেও কমিশন মনে করছে। আইন অনুযায়ী যোগ্য যে কেউ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে তার আইনগত যোগ্যতাকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছর ৩ হাজার ৭৫৫টি এবং আগামী বছর আরো ৩৪৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপযোগী হবে। এছাড়া, ৩৩০টি পৌরসভা, নতুন ঘোষিত ৫ টিসহ ৫০০টি উপজেলা, বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং ৬১টি জেলা পরিষদ নির্বাচন উপযোগী অবস্থায় রয়েছে।