ক্যাম্পাস

অনলাইন উচ্চশিক্ষার চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী, বাড়েনি তহবিল

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক বিখ্যাত 'দ্য ওপেন ইউনিভার্সিটি'-এর শাখা ওয়েলসে দূরশিক্ষাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে দ্রুতগতিতে। কাজ, পরিবার ও আর্থিক দায়িত্ব সামলে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে ক্রমেই বেশি মানুষ খণ্ডকালীন শিক্ষার দিকে ঝুঁকছেন। তবে শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়লেও অর্থায়ন সেই হারে না বাড়ায় উদ্বেগ জানিয়েছে ওপেন ইউনিভার্সিটি (ওইউ)।

বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে ওয়েলসে তাদের শিক্ষার্থী সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে যেখানে শিক্ষার্থী ছিল সাত হাজারের কম, বর্তমানে সেই সংখ্যা ১৬ হাজার ছাড়িয়েছে।

ওয়েলসে ওপেন ইউনিভার্সিটির আয়ের বড় অংশ আসে শিক্ষার্থীদের ফি এবং ওয়েলস সরকারের অর্থায়ন থেকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট আয়ের প্রায় ৪৬ শতাংশ এসেছে সরকারি তহবিল থেকে। তবে, গত ১০ বছরে মূল অর্থায়নের প্রকৃত মূল্য প্রায় ৩৩ শতাংশ কমে গেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

সোয়ানসির ইস্টালিফেরা এলাকার ৪৩ বছর বয়সী র‍্যাচেল টাউনসেন্ড ওপেন ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনার পাশাপাশি পূর্ণকালীন চাকরি করেছেন এবং একক অভিভাবক হিসেবে দুই সন্তানকে বড় করেছেন। সহকারী সমাজকর্মী হিসেবে কাজ করার সময় তিনি মনে করেছিলেন, তার পেশাগত অগ্রগতির সুযোগ সীমিত হয়ে গেছে। কিন্তু সন্তানদের দেখাশোনা ও চাকরির কারণে প্রচলিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া তার পক্ষে সম্ভব ছিল না।

র‍্যাচেল টাউনসেন্ড

র‍্যাচেল বলেন, “সন্তানদের ঘুম পাড়িয়ে ল্যাপটপ নিয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ, পাশাপাশি চাকরি ও সংসার চালিয়ে যাওয়ার সুবিধা তাকে নতুন জীবন দিয়েছে।” তার ভাষায়, এই সুযোগ না পেলে তিনি কম বেতনের চাকরিতেই আটকে থাকতেন। ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর তিনি নেতৃত্বের দায়িত্বে কাজ করেছেন, বড় বাড়ি কিনতে পেরেছেন এবং বর্তমানে নিজের ব্যবসাও শুরু করেছেন।

অন্যদিকে, কার্ডিফের ২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী এরিন গার্ডনার ওপেন ইউনিভার্সিটিতে দর্শন ও মনোবিজ্ঞান বিষয়ে পড়ছেন। তিনি জানান, প্রচলিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও সেখানে পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। পরে বিভিন্ন চাকরি করার পর শিক্ষক সহকারী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে আবার উচ্চশিক্ষায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। তবে পূর্ণকালীন পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন না থাকায় ওপেন ইউনিভার্সিটিই তার জন্য সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প হয়ে ওঠে।

এরিনের মতে, ওপেন ইউনিভার্সিটি না থাকলে তিনি নিজেকে আটকে পড়া মনে করতেন। কারণ এর মাধ্যমে তিনি যেমন ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন, তেমনি পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতাও অর্জন করছেন।

এরিন গার্ডনার

ওপেন ইউনিভার্সিটির ওয়েলস শাখার প্রতিনিধি সেরিথ রিস-জোনস বলেন, “শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও মাথাপিছু অর্থায়ন বাড়েনি। ২০১৮ সালে যেখানে শিক্ষার্থী ছিল প্রায় সাত হাজার, বর্তমানে তা ১৭ হাজারের কাছাকাছি। কিন্তু ১০ বছর আগের তুলনায় বাস্তব হিসেবে প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য পাওয়া অর্থায়ন প্রায় ৩০ শতাংশ কম।”

তার মতে, নমনীয় উচ্চশিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হলে শিক্ষক, নার্স ও সমাজকর্মীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবী তৈরিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। একইসঙ্গে পরিবর্তিত কর্মবাজারে নতুন দক্ষতা অর্জন ও পুনঃদক্ষতা উন্নয়নের সুযোগও সীমিত হয়ে যাবে। তিনি বলেন, “উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন।

এদিকে ওয়েলস সরকার জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় খাত যে বড় ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে, তা তারা স্বীকার করে। সরকার উচ্চশিক্ষা অর্থায়ন ব্যবস্থা নিয়ে একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যাতে ব্যবস্থা আর্থিকভাবে টেকসই হয় এবং সরকারি বিনিয়োগের সুফল আরও বেশি করে ওয়েলসের মানুষ পায়।

[প্রতিবেদনটি বিবিসিতে ২ জুন প্রকাশিত হয়েছে।]