কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন নিহত এবং আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আজ বুধবার (৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালায় এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। খবর আল-জাজিরার।
বিবৃতিতে বলা হয়, “ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে বেসামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ইরান যে নৃশংস ও ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে, কুয়েত রাষ্ট্র তার তীব্রতম ভাষায় নিন্দা প্রকাশ করছে।”
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এই হামলাগুলো “পুনরায় বেসামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিশেষ করে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। এর ফলে একজন ব্যক্তি নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, পাশাপাশি কূটনৈতিক মিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
বিবৃতিতে কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে ‘পাপপূর্ণ ও বারবার চালানো ইরানি আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করেছে। একইসঙ্গে বলেছে, “দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও এই হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কুয়েত তার ‘পূর্ণ ও সহজাত অধিকার’ বজায় রাখছে।”
এদিকে, মঙ্গলবার রাতে ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পেছনে কুয়েত ও বাহরাইনের সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছে তেহরান।
বুধবার সকালে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র কুয়েত এবং বাহরাইনের ভূখণ্ড ও সামরিক স্থাপনা ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। ফলে এই হামলার জন্য দেশ দুটি ‘সরাসরি এবং স্পষ্ট দায়’ এড়াতে পারে না।
বিবৃতিতে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, “নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইরানের আত্মরক্ষার ‘পূর্ণ অধিকার’ রয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের যেকোনো হামলা ঠেকাতে এবং তার উপযুক্ত জবাব দিতে ইরান সম্ভাব্য সব ধরনের পথ ও উপায় ব্যবহার করবে।”