বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলীর (রাঃ) মাজার সংলগ্ন পুকুর থেকে উদ্ধার করা কুমিরটিকে বুধবার (৩ জুন) দুপুরে খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল এ তথ্য জানিয়েছেন।
গত সোমবার (১ জুন) রাত ৮টার দিকে মাজারের পাশের পুকুরে গোসল করার সময় ৮ বছর বয়সী শিশু ফাতেমা আক্তার কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কুমিরটি শিশুটির পা ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। ভোরে মাজারের পাশের পুকুরের মহিলা ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ হৃদয়বিদারক ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থী ও ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
ডিএফও নির্মল কুমার পাল জানান, পর্যবেক্ষণের জন্য কুমিরটিকে দুপুর সোয়া ১টার দিকে খুলনা পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। খুলনা পুনর্বাসন কেন্দ্রে ৪ থেকে ৭ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর কোথায় রাখা হবে, সে বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এর আগে বন অধিদপ্তর, বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের একটি যৌথ দল বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের সহায়তায় কুমিরটিকে উদ্ধার করে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে খুলনায় পাঠায়।
উদ্ধারের সময় খুলনার বন সংরক্ষক ইমরান খান, বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের ডিএফও রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বন কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে বিশেষ উদ্ধারকারী দল আজ (বুধবার) সকালে কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার কেন্দ্রে পাঠিয়েছে।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসন বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রা.) মাজার সংলগ্ন পুকুর থেকে কুমিরটিকে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয়। মাজারে আগত স্থানীয় ও বিদেশী দর্শনার্থী এবং ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার (২ জুন) গভীর রাতে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মঙ্গলবার রাত ১০টায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন।
বৈঠক শেষে জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, সাম্প্রতিক মর্মান্তিক ঘটনার পর মাজার এলাকার দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পুকুর থেকে কুমিরটিকে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে মাজার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।