বিনোদন

রাজনীতির পালাবদল: তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল টলিউডের গিল্ড আধিপত্য

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জয়ের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আমূল পালাবদল ঘটেছে। এ হাওয়া লেগেছে শোবিজ অঙ্গনেও। দেড় দশকের বেশি সময় ধরে কলকাতার স্টুডিওপাড়ার অন্দরে বিশ্বাস ব্রাদার্সের যে একাধিপত্য ও ক্ষমতার দাপট তৈরি হয়েছিল, রাজনৈতিক পালাবদলের পর তা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল! 

বুধবার (৩ জুন) পুরোনো ফেডারেশনের আওতাধীন ২৬টি গিল্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তার পরিবর্তে নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে টলিউডে আত্মপ্রকাশ করল—ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যান্ড সিনে কালচারাল কনফেডারেশন (ইআইএমপিসিসি)। 

নতুন ও শক্তিশালী এই সংগঠনের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে রয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী। তার পরিস্কার বয়ান—“সকলে একছাতার তলায় আসবেন। ফেডারেশনের পুরোনো কাঠামোকে পিছনে ফেলে, সিনেশিল্প এবার এগোবে নতুন পরিচয়ে। যার নাম—‘ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যান্ড সিনে কালচারাল কনফেডারেশন (ইআইএমপিসিসি)’। ২৬টি গিল্ড আর থাকবে না। ভীষণ অসুবিধা। তিনটে বা চারটে থাকবে। তার জন্য যা যা দরকার করব। প্রতি সপ্তাহে টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে আলোচনা হবে। সকলকে নিয়ে কাজ হবে।” 

হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে টলিপাড়ার টেকনিশিয়ান ও কলাকুশলীদের ওপর পুরোনো ফেডারেশনের অঘোষিত ‘দাদাগিরি’, যখন-তখন কাজ বন্ধ করে দেওয়া, ডিক্টেটরশিপ বা একনায়কতন্ত্র এবং পকেট গিল্ডের দৌরাত্ম্য নিয়ে ক্ষোভ জমেছিল স্টুডিওপাড়ার আনাচে-কানাচে। বহু পরিচালক, প্রযোজক এবং স্বাধীনচেতা টেকনিশিয়ানরা মুখ বুজে এই অত্যাচার সহ্য করছিলেন বলে অভিযোগ। অনেক সময় আইনি লড়াই বা আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বদলায়নি চিরচেনা সেই চিত্র। তবে ছাব্বিশের রাজনৈতিক পালাবদলের হাওয়া টলিপাড়ায় লাগতেই পুরো দৃশ্যপট বদলে গেল। পুরোনো ক্ষমতার দাপটকে চিরতরে উপড়ে ফেলে ২৬টি গিল্ডের বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। পাপিয়া অধিকারীর নতুন কোর কমিটিতে টলিপাড়ার বেশ কিছু চেনা ও অভিজ্ঞ মুখ শামিল হয়েছেন বলে জানা গেছে।  

টলিপাড়ার কলাকুশলীদের দাবি, এই মেগা ওভারহল বা খোলনলচে বদলে যাওয়ার ফলে স্টুডিওপাড়ায় কাজের পরিবেশ অনেক বেশি স্বচ্ছ ও মুক্ত হবে। বিশেষ কোনো দলের বা ব্যক্তির অঙ্গুলিহেলনে আর কারো রুটিরুজি কেড়ে নেওয়া যাবে না। 

নতুন কনফেডারেশনের নেত্রী অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাদের মূল লক্ষ্যই টলিপাড়ার প্রতিটি কর্মীর অধিকার রক্ষা করা, কাজের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক পক্ষপাতহীন এক সুস্থ পরিবেশ তৈরি করা। কোনো জুনিয়র আর্টিস্ট বা টেকনিশিয়ান যাতে শোষণের শিকার না হন এবং প্রযোজকদেরও যাতে অহেতুক হেনস্তা বা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে না হয়, তা সুনিশ্চিত করবে এই নতুন বডি।