সারা বাংলা

সাভার ট্যানারিতে ৭ দিনে ঢুকেছে ৬ লাখ ৪০ হাজার চামড়া

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহে ঢাকার সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে প্রবেশ করেছে ৬ লাখ ৪০ হাজারের বেশি কাঁচা চামড়া। ঈদের প্রথম দিন থেকে শুরু হওয়া চামড়া সংগ্রহ ও পরিবহনের কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ট্যানারিগুলোতে চামড়া সংরক্ষণ, লবণজাতকরণ ও প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাতের কাজ চলছে পুরোদমে। বর্তমানে লবণ মাখানো চামড়া ঢুকছে ট্যানারিতে।

বুধবার (৩ জুন) রাতে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো এক বার্তায় চামড়া শিল্পনগরীর বিসিক কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাইয়ান এ তথ্য জানান। 

তিনি জানান, গত ২৮ মে বেলা ১২টা থেকে ৩ জুন রাত ১১টা পর্যন্ত সাতদিনে মোট ১ হাজার ৮২৩টি ট্রাকে করে শিল্পনগরীতে এসেছে ৬ লাখ ৪০ হাজার ৪৩০টি কাঁচা চামড়া। এর মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়া রয়েছে ৫ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৯টি এবং ছাগল-ভেড়ার চামড়া ৫৫ হাজার ৮৪১টি।

সরেজমিনে শিল্পনগরী ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন ট্যানারিতে এখনো ট্রাক থেকে চামড়া আনলোড ও সংরক্ষণের কাজ চলছে। শ্রমিকরা চামড়ায় লবণ মাখিয়ে সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শিল্পনগরীর প্রধান ফটক থেকে শুরু করে বিভিন্ন কারখানার ভেতর পর্যন্ত ব্যস্ততা চোখে পড়েছে।

মেহরাজুল মাইয়ান বলেন, ‍“শিল্পনগরীতে আসা চামড়া দ্রুত সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতের কাজ চলছে। ঈদের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে বিসিক, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। চামড়া পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায়ও নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি।”

শিল্পনগরীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, ঈদের প্রথম দিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সর্বপ্রথম কোরবানির পশুর চামড়া বহনকারী একটি গাড়ি শিল্পনগরীতে প্রবেশ করে। এরপর সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে চামড়াবাহী ট্রাকের সংখ্যা। প্রথম দিকে আসা অধিকাংশ কাঁচা চামড়া ছিল রক্তমাখা। ট্যানারিতে পৌঁছানোর পর শ্রমিকরা দ্রুত সেগুলোতে লবণ প্রয়োগ করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন।

ট্যানারি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোরবানির ঈদকে ঘিরে এটি বছরের সবচেয়ে বড় চামড়া সংগ্রহ মৌসুম। ফলে চামড়া সংগ্রহ, পরিবহন ও সংরক্ষণে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। অনেক ট্যানারি আগে থেকেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেও ঈদের পর নতুন করে বিপুল পরিমাণ চামড়া সংগ্রহ করা হচ্ছে।

গত ২৯ মে চামড়া শিল্পনগরী পরিদর্শনে আসেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির। তিনি বিভিন্ন ট্যানারি কারখানা ঘুরে দেখেন এবং মালিকদের সঙ্গে শিল্পের বর্তমান অবস্থা, উৎপাদন কার্যক্রম ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন।