‘‘রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন ভবনটি হাসপাতালের জন্য উপযুক্ত নয়। দীর্ঘক্ষণ এসি বন্ধ থাকায় পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে অক্সিজেন স্বল্পতা হয়। বদ্ধ কক্ষে বায়ু চলাচল কম থাকায় শিশুদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। শিশুদের মৃত্যুতে চিকিৎসক, নার্স ও কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ছিল।’’
হাসপাতালটিতে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকালে ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘তদন্ত কমিটি হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ড-২ পরিদর্শন করে বেশ কিছু গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে। কমিটির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় কক্ষটির শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) বন্ধ ছিল এবং সেখানে স্বাভাবিক বায়ু চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। ফলে কক্ষে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব বেড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘তদন্তকারীরা দায়িত্বরত সেবিকা, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং মৃত নবজাতকদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের বক্তব্যে সেবিকাদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অসহযোগিতার বিষয়টি উঠে এসেছে। নবজাতকদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও দ্রুত চিকিৎসককে জানানো হয়নি এবং জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’’
‘‘প্রায় ৯০০ বর্গফুটের একটি কক্ষে ১১ জন রোগী, নবজাতক এবং তাদের স্বজনসহ প্রায় ৫০ জন অবস্থান করছিলেন, যা কক্ষটির ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি। অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি,’’ যোগ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে রোগীদের তদারকির জন্য কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেবিকাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণেরও ঘাটতি ছিল। পাশাপাশি আলো-বাতাস চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি।
তবে হাসপাতালটি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সেখানে বর্তমানে অনেক রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। রোগীদের স্বার্থ বিবেচনায় হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম চালু রাখা হবে। তবে তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আগামী রোববারের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।