বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারা কমপ্লেক্স কাশিমপুরে কর্মরত এক কারারক্ষীর বিরুদ্ধে মাদকসেবন ও মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ আছে, তার বিরুদ্ধে একাধিকবার প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তিনি এখনো চাকরিতে বহাল আছেন। বিষয়টি নিয়ে কারা প্রশাসন ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযুক্ত কারারক্ষী মো. মশিউর বর্তমানে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে কর্মরত। কারা সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত মোট ৯টি বিভাগীয় মামলা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে প্রশাসনিক শাস্তিও পেতে হয়েছে তাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কারা সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কারাগারের আশপাশের এলাকায় কিছু মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে মশিউরের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে। এ সুযোগে তিনি মাদক সেবনের পাশাপাশি কারাগারের ভেতরে মাদক পৌঁছে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত। এমনকি, তার মাদক সেবনের কিছু দৃশ্য গোপনে ধারণ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কারারক্ষী মশিউর বলেন, “এ ধরনের অভিযোগের কথা আমি প্রথম শুনলাম।” পরে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, মশিউরের বিরুদ্ধে মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে, তাকে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে কারাগারের অভ্যন্তরে দায়িত্ব না দিয়ে বাইরে আরপি গেটে ডিউটি দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “মশিউরের বিরুদ্ধে মোট ৯টি বিভাগীয় মামলা রয়েছে। তার চাকরিজীবনের রেকর্ড সন্তোষজনক নয়। বর্তমানে একটি বিভাগীয় মামলাও চলছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
কারাগারে মাদক প্রবেশের বিষয়ে জেল সুপার বলেন, “স্টাফদের মাধ্যমে কিছু মাদক ঢোকার অভিযোগ থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে কারাগারের বাইরের দিক থেকে মাদক নিক্ষেপ করা হয়। অনেক সময় বলের মতো করে মোড়ানো মাদক কারাগারের ভেতরে ছুড়ে দেওয়া হয়। এসব প্রতিরোধে কারাগারের চারপাশে সুরক্ষা নেট স্থাপন, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ জোরদার এবং নিয়মিত টহল বাড়ানো হয়েছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, যাদের ওপর কারাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব, তাদের মধ্যেই কেউ যদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে।
অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কাশিমপুর কারা কমপ্লেক্সে দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ কারাগার অবস্থিত। এগুলো হলো—কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২, কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার এবং কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার। এসব কারাগারে বিভিন্ন আলোচিত মামলার আসামি, জঙ্গিবাদ সংশ্লিষ্ট বন্দি, যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তসহ গুরুত্বপূর্ণ বন্দিরা আছেন।