সারা বাংলা

টাকা ছাড়া মেলে না সেবা, দুর্ভোগ সীমাহীন 

গাইবান্ধার সাঘাটায় বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে এসে ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সেবা গ্রহীতারা। বিভিন্ন নাগরিক এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পেতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলার জুমারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে। 

সাঘাটার জুমারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন গ্রাম ও যমুনা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল থেকে প্রতিদিন অসংখ্য সেবাগ্রহীতা সেবা নিতে আসেন। কেউ জন্মনিবন্ধন সংশোধনের জন্য, কেউ নাগরিক সনদ সংগ্রহে, আবার কেউ সরকারি ভাতার সুবিধা পেতে ইউনিয়ন পরিষদে আসেন। 

সেবা গ্রহীতাদের অভিযোগ, টাকা ছাড়া প্রয়োজনীয় সেবা তারা পাচ্ছেন না। এছাড়া কর্মকর্তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো অফিসে আসেন। অনেক সময় দুপুরের পরও তাদের অফিসে পাওয়া যায় না। এতে দুর্গম চরাঞ্চল থেকে আসা সাধারণ মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

‎তাদের স্পষ্ট অভিযোগ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কম্পিউটার অপারেটরের প্রতি। ‎সেবা নিতে আসা আবিদ নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘‘ইচ্ছাকৃতভাবে কাগজে ভুল ধরা হয়। পরে বলা হয়, অতিরিক্ত টাকা দিলে দ্রুত কাজ হবে। না হলে কাজ আটকে থাকবে। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের এটি একটি কৌশল।’’

‎জুমারবাড়ি ইউনিয়নের বসন্তেরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মনিকা বেগম সম্প্রতি সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন,  ‘‘মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাছুম কামাল আমার কাছে থেকে চার হাজার টাকা নিয়েছেন। এরপর সাত মাস ধরে নানা অজুহাতে আমাকে তিনি ঘোরাচ্ছেন।’’ 

‎একই গ্রামের আব্দুল মাওলা বলেন, ‘‘আমার ছেলের বিদেশ যাওয়ার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন জরুরি ছিল। এ কাজ করে দেওয়ার কথা বলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাছুম কামাল ও কম্পিউটার অপারেটর বুলবুল আমার কাছ থেকে আট হাজার টাকা নেন। পরে দিনের পর দিন ঘোরানোর পর তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির ঘটনাও ঘটে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজ উদ্যোগে আমার কাজ করে দিয়েছেন।’’

‎স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান না করলে অনেক ক্ষেত্রে সেবা পেতে বিলম্ব হয়। এতে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

‎অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাছুম কামাল বলেন, ‘‘অফিসে আসতে কিছুটা দেরি হয়। তবে, অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও হয়রানির অভিযোগ ঠিক নয়।’’ 

‎কম্পিউটার অপারেটর বুলবুল বলেন, ‘‘যেসব কাগজপত্রে ভুলের অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলো ২০১১-১২ সালে হাতে লেখা হয়েছিল। এসব ভুল আবেদনকারীদের তথ্যগত ত্রুটির কারণে হয়েছে, আমার কোনো ভুল নেই।’’ তিনি অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে জুমারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘‘অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা আছে। এ নিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।’’

বৃহস্পতিবার বিকালে ‎সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর বলেন, ‘‘এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্তের জন্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

‘‘সম্প্রতি মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য যারা আবেদন করছেন, তাদের যেন হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে কারণে আমি নিজে তাদের সঙ্গে কথা বলছি,’’ বলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।