বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “চারদিকে সচেতন ও সুপরিকল্পিতভাবে সবকিছুকে ভেঙে ফেলা, অর্থহীন করে ফেলা এবং এর মধ্য দিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা চলছে। কিছু কিছু মহল নির্বাচনের আগ থেকেই এবং ২৪-এর পর কিছুদিন যেতেই এমনভাবে নানা চক্রান্ত করছে, যাতে দেশে গণতন্ত্র টিকে না থাকে।”
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে প্রয়াত রাজনীতিবিদ মাহবুবুল হক ও মাহবুবুল আলম তারার স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত হয়েছে। এখন সরকারের দায়িত্ব হবে দ্রুত এসব ষড়যন্ত্র চিহ্নিত করে গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করা।”
বিএনপির মহাসচিব বলেন, “মাহবুবুল আলম তারা, মাহবুবুর রহমান ও মামুন সাহেবদের মতো ব্যক্তিত্বরা জাতি ও সমাজের জন্য স্থায়ী অবদান রেখে গেছেন। তারা রাজনীতিকে জনগণের কল্যাণ ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার মাধ্যম হিসেবে দেখতেন।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমালোচনা করে তিনি বলেন,“বর্তমানে রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্র হননের প্রবণতা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট ও ভাষা ব্যবহার করে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য অশনি সংকেত।”
তিনি বলেন, “রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অপপ্রচার রাজনীতিকে দুর্বল করে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার মানুষকে মূল রাজনৈতিক ধারা থেকে বিচ্যুত করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, “বড় আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়াকে নষ্ট করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।”
বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। দলটি কোনো বিপ্লবী সংগঠন নয় বরং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন এবং নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণে বিশ্বাসী।”
অনুষ্ঠানে প্রয়াত নেতা মাহবুবুল আলম তারার স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য তার নামে দুটি স্থাপনার নামকরণের প্রস্তাবের বিষয়েও কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি জানান, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে। বিএনপি এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে পারে।
তিনি দেশের বরেণ্য রাজনৈতিক নেতাদের জীবন ও অবদান সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বিশিষ্ট রাজনীতিবিদদের জীবনী ও অবদান নিয়ে প্রকাশনা হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের সম্পর্কে জানতে পারে।”