এবার তৃণমূলের হাতছাড়া হলো কলকাতার পৌরসভাও। শুক্রবার (৫ জুন) কলকাতা পৌরসভার (কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের বা কেএমসি)-র মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম। চেয়ারপার্সন মালা রায়ের কাছে পদত্যাগ পত্র তুলে দেন তিনি।
সদ্য শেষ হওয়া বিধানসভার নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয়ের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন পৌরসভায় একাধিক কাউন্সিলর, পঞ্চায়েত সদস্য, জেলা পরিষদের সদস্যরা নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এবার সেই ঢেউ লাগলো কলকাতা পৌরসভাতেও।
২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে কলকাতার মেয়র পদে বসেন ফিরহাদ হাকিম। বস্তুত, ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের প্রথম মুসলমান মেয়র হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ২০২১ সালে দ্বিতীয়বার মেয়রের আসনে বসেন কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের বিধায়ক। প্রায় আট বছর মন্ত্রিত্ব এবং মেয়র পদ সমানতালে সামলেছেন মমতা ঘনিষ্ঠ এই তৃণমূল নেতা। সম্প্রীতি মেয়র পদ থেকে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির কাছে অনুমতি নিয়েছিলেন ফিরহাদ। কারণ হিসেবে নিজের ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি জানিয়েছিলেন, কলকাতা পৌরসভায় কাজের পরিবেশ নেই, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে কলকাতা পুরসভায় কাজ করা ক্রমশ কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
শুক্রবার পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে ফিরহাদ হাকিম বলেন, “আমি কেউ না। কিন্তু আমি যে চেয়ারটায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, বিধানচন্দ্র রায়, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ- যাদের ছবিতে প্রণাম করে আমরা বড় হয়েছি- আমাদের সেই সব স্মরণীয় ব্যক্তিরা বসেছিলেন সেই চেয়ারটার আলাদা একটা সম্মান রয়েছে। এখন সেটা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সেই চেয়ারটাকে আমি অবমাননা করতে পারি না। আমার মনে হয়, চেয়ার ধরে বসে রইলাম অথচ ঢাল নেই, তলোয়ার নেই, নিধিরাম সর্দার- এটা হতে পারে না। তাই আমি ঠিক করেছি যে আজকে পদত্যাগ করছি।”
দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জিকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফিরহাদ বলেন, “২০১৮ সালে তৎকালীন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পদত্যাগের পর সব কাউন্সিলরদের সম্মতি নিয়ে আমাকে এই চেয়ারে বসানো হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে আমি দায়িত্ব পালন করলাম ২০১৮ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত। ২০২১ সালের নির্বাচনে মানুষ আবার আমাদের সমর্থন করলেন এবং সেই থেকে আজ পর্যন্ত এই পদে রয়েছি। আগামী দিনে যারা দায়িত্ব নেবে পৌরসভা চালাবে, তারা আমার থেকেও ভালোভাবে চালাবে।”
তিনি বলেন, “স্বচ্ছভাবে পৌরসভা চালানো এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করাটাই হচ্ছে কাজ। নতুন সরকারের কাছে, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন মানুষের প্রত্যাশা যেন তারা পূরণ করে। ”