গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় এক নারী চিকিৎসককে অপহরণ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিয়ে করার অভিযোগে চিকিৎসক মাহবুব হাসান রায়হানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্ত চিকিৎসককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) বিকেলে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম গ্রেপ্তারের তথ্য জানান।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দুর্গাপুর (তেলজুড়ী) গ্রামের বাসিন্দা ডা. ফারহানা শারমিন শ্রীপুর পৌর এলাকার একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আবাসিক মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত। কর্মস্থলে পরিচয়ের সূত্র ধরে একই প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক মাহবুব হাসান রায়হান তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন এবং এক পর্যায়ে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তবে ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ফারহানা।
অভিযোগে বলা হয়, সম্প্রতি চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর শেষবারের মতো দেখা করে চা পান করার প্রস্তাব দেন মাহবুব হাসান রায়হান। গত ২৬ মে সন্ধ্যায় সেই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ফারহানা সাতখামাইর এলাকার একটি চায়ের দোকানে যান। ফেরার পথে একটি প্রাইভেটকারে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তার অটোরিকশার গতিরোধ করে।
ভুক্তভোগীর দাবি, এরপর তার মুখ চেপে ধরে এবং গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে জোর করে গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। একইসঙ্গে তার মোবাইল ফোন ও স্বর্ণের আংটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে চোখ বেঁধে বিভিন্ন নির্জন স্থানে ঘোরানোর পাশাপাশি তাকে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখনো হয়।
এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, অপহরণকারীরা তাকে হত্যার হুমকি দেয় এবং আপত্তিকর ভিডিও ধারণের ভয় দেখিয়ে মাহবুব হাসান রায়হানের সঙ্গে বিয়েতে সম্মত হওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। এক পর্যায়ে গভীর রাতে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে কাজীর উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বিয়েতে সম্মতি না দিলেও জোর করে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে কাবিননামাসহ কয়েকটি খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ নেওয়া হয় এবং পুরো ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, পর দিন ভোররাতের দিকে তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাছে নামিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ঘটনাটি প্রকাশ করলে তার এবং পরিবারের সদস্যদের ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়।
মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে মাহবুব হাসান রায়হানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তার কয়েকজন সহযোগী ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ সুরুজ্জামান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর শুক্রবার মামলা রুজু করা হয় এবং প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, গ্রেপ্তার আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীর স্বাক্ষরযুক্ত তিনটি খালি স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়েছে। এ সব আলামত জব্দ করে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি ভুক্তভোগী চিকিৎসক। হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় তিনি জানান, তার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে এবং এ বিষয়ে তিনি আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় এবং মামলাটি বিচারাধীন অবস্থায় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি।