গণমাধ্যমের স্বাধীনতার নামে বিগত সরকারের আমলে গুম, খুন, ভোট কারচুপি ও গণহত্যার বৈধতা দেওয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, গণতন্ত্র ধূলিসাৎ করার কাজ করলে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সে সাংবাদিক হোক, রাজনীতিবিদ হোক বা ব্যবসায়ী।
রবিবার (৭ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে এ আলোচনা হয়।
সংসদে ফ্লোর নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিগত ১৭ বছরে অনেক পেশাদার সাংবাদিক নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের সময়ে কিছু নামধারী সাংবাদিক গুম, খুন, ভোট চুরি, ব্যাংক ডাকাতি ও গণহত্যার পক্ষে সম্মতি উৎপাদন করেছেন। তাদের বিষয়ে সরকার কী ভাবছে?
তিনি অভিযোগ করেন, আজ যারা সরকারে আছেন, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীকে ওই সাংবাদিকরা দেশদ্রোহী, ষড়যন্ত্রকারী বলেছেন। বসুন্ধরা গ্রুপের ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়াসহ কয়েকটি হাউজ বিএনপি-জামায়াত নেতাদের হত্যার পক্ষে জনমত তৈরি করেছে। অথচ সেই সাংবাদিকদের এখন বিভিন্ন হাউজে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। আর জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের সাংবাদিকদের চ্যানেল থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে।
উদাহরণ দিয়ে তিনি আরও বলেন, সময় টিভি দখল হয়েছে। গতকাল নোয়াখালীতে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রলীগ ছাত্রদলকে পেটাল, আর কিছু টকশোজীবী সেটা উদযাপন করেছে। এসব গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সরকার আদৌ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে কি?
হাসনাত আবদুল্লাহর দীর্ঘ প্রশ্নের জবাবে কিছুটা রসিকতা করে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি প্রশ্ন করলেন, নাকি কয়টি করলেন, আমরা ট্র্যাক হারিয়ে ফেলেছি।
এরপর তিনি স্পষ্ট করেন, দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আছে। কিন্তু প্রচলিত আইন অনুযায়ী, যারা গণতন্ত্রের বিপক্ষে কাজ করবে, সন্ত্রাসের পক্ষে কাজ করবে, তারা আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অপরাধীদের বিষয়ে জিরো টলারেন্সের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অপরাধী সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী বা চাকরিজীবী যেই হোক, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। বিএনপির নেতৃত্বে ও প্রধানমন্ত্রীর অধীনে গঠিত এই সরকার প্রচলিত আইনে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে।