পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, “জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ শুধু দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বৃদ্ধি করেনি, বরং এটি বাংলাদেশের অন্যতম কার্যকর ‘সফট পাওয়ার’ হিসেবে কাজ করছে। আফ্রিকা থেকে মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে পেশাদারিত্ব, মানবিকতা ও আত্মত্যাগের কারণে আজ বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।”
সোমবার(৮ জুন) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বিশ্ব শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিফেন্স জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, “১৯৮৮ সালে সীমিত পরিসরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের শান্তিরক্ষীরা দক্ষতা, সাহসিকতা ও মানবিকতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জন করেন। গত প্রায় চার দশকে ২ লাখ ৬০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী ৪৩টি দেশের ৬৩টিরও বেশি মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন।”
তিনি বলেন, “বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার এই অভিযাত্রায় ১৭৪ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন। গত ডিসেম্বরে আরো ছয়জন শান্তিরক্ষীকে হারাতে হয়েছে। তাদের এই ত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সম্প্রতি মরক্কো ও সেনেগালে শান্তিরক্ষা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের জনগণ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের কতটা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করে। তাদের কাছে বাংলাদেশ পরিচিত হয়েছে শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, মানবিকতা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে।”
নারী শান্তিরক্ষীদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৮০০ জনের বেশি বাংলাদেশি নারী বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে ৩৩২ জন নারী শান্তিরক্ষী কর্মরত রয়েছেন। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
বিশ্ব নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে শাবা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, “বর্তমানে সশস্ত্র সংঘাতের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, সন্ত্রাসবাদ, সাইবার হুমকি ও বিভ্রান্তিকর তথ্যপ্রবাহ নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে আরো প্রযুক্তিনির্ভর, মানবকেন্দ্রিক ও কার্যকর করতে হবে।”
সভায় আন্তজার্তিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বাহিনীর বিভিন্ন সফলতা তুলে ধরেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিফেন্স জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আলমগীর হোসেন।