খেলাধুলা

এনএসসি মনোনীত বিসিবির দুই পরিচালককে ‘চেনেন না অনেকেই’

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) মনোনয়নে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হয়েছেন দুই নতুন পরিচালক। তারা হলেন-শেখ মো. রুহুল আমিন ও মো. সরফরাজ আহমেদ। তবে তাদের নাম ঘোষণার পর থেকেই ক্রীড়াঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা।

ক্রিকেট প্রশাসন তো বটেই, অনেক ক্রীড়া সংগঠক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিও তাদের পরিচয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে পারছেন না। এমনকি বিসিবির নবনির্বাচিত সভাপতি তামিম ইকবালও নিজের বক্তব্যের শুরুতে বিষয়টি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে তুলে ধরেছেন। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, বিসিবির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে মনোনীত এই দুই পরিচালক আসলে কারা এবং কী পরিচয়ে তারা বোর্ডে জায়গা পেলেন?

তামিম ইকবাল বলেছিলেন, “যারা নির্বাচিত হয়েছেন, অনেকের সাথে আমারও আজকে প্রথমবারের মতো পরিচয়। আমাদের যে মিটিং ছিল, সেখানেও আমি একটা কথা পরিষ্কারভাবে বলেছি-আমাদের পার্সোনাল আইডেন্টিটি যাই থাকুক না কেন, আমাদের দায়িত্ব কিন্তু একটাই। আর এই দায়িত্বের খাতিরেই আজ আমরা এখানে একসঙ্গে বসেছি; আর ওটা হলো বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সার্ভ করা এবং ক্রিকেটকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।”

বিসিবির পরিচালনা পর্ষদে যারা এসেছেন তাদের প্রায় প্রত্যেকের রাজনৈতিক পরিচয় সামনে এসেছে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যারা নির্বাচিত হওয়া বেশিরভাগই সরকারি দল বিএনপি সংশ্লিষ্ট বা ঘনিষ্ঠ। রংপুর বিভাগ থেকে নির্বাচিত পরিচালক মির্জা ফয়সল আমীন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামের ভাই। সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদের বাবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইসরাফিল খসরুর বাবা অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং মির্জা ইয়াসির আব্বাসের বাবা প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।

এই তালিকাটা আরো লম্বা। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও বগুড়া-২ আসরের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলমের ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত পরিচালক হয়েছেন রাজশাহী বিভাগ থেকে। সিলেট বিভাগের পরিচালক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি। বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাতের ছেলে সাইদ বিন জামান, পানিসম্পদমন্ত্রী ও লক্ষ্মীপুর–৩ আসনের সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দীন চৌধুরীর চাচা মঈন উদ্দিন চৌধুরী পরিচালক হয়েছেন চট্টগ্রাম থেকে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ও যশোর–৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলামের ভাই শান্তনু ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন খুলনা বিভাগ থেকে। বরিশাল থেকে নির্বাচিত হওয়া মিজানুর রহমান সভাপতি তামিম ইকবালের ঘনিষ্ঠ।

যারা নির্বাচন কিংবা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় পরিচালক হয়েছেন তাদের রাজনৈতিক পরিচয় সামনে এসেছে আগেই। ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে অনেকেরই অভিজ্ঞতা প্রায় শূন্যর কোটায়। তবুও বিশেষ ক্ষমতাবলে ও রাজনৈতিক সুপারিশে তারা বিসিবির হট সিটে বসেছেন। সেই সূত্র ধরেই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মনোনীত দুই পরিচালক সম্পর্কে খোঁজ নিয়েও অভিন্ন কিছু পাওয়া গেল না।

শেখ মো. রুহুল আমিনের বাড়ি বাগেরহাট। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তিনি। এর বাইরে একজন ব্যবসায়ী। তার ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে তেমন অভিজ্ঞতা নেই। অন্য পরিচালক সরফরাজ আহমেদের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায়। তিনিও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তবে তার সংগঠক হিসেবে কিছুটা পরিচয় আছে। আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কো-অর্ডিনেটর হিসেবে বেশ কিছু টুর্নামেন্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত তিনি। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট খেলেছেন।

শুধু তামিম ইকবাল নয়, যারা পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন তারাও অনেকে এনএসসির মনোনীত দুই পরিচালককে চেনেন না। নাম প্রকাশে এক পরিচালক বললেন, “সামনে পরিচয় হয়ে যাবে। তখন জানা যাবে।”