ওয়ালটন স্মার্ট ফ্রিজ ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের শিরোপার ফয়সালা হবে শেষ (১১তম) রাউন্ডে। সোমবার লিগের দশম রাউন্ডে আবাহনী রুদ্ধশ্বাস জয় পেয়েছে। হেরেছে শিরোপার লড়াইয়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।
ঐতিহ্যবাহী দলটি হেরে যাওয়ায় শিরোপার লড়াই দারুণভাবে জমে উঠেছে। লিগে পয়েন্ট টেবিল অনুযায়ী মোহামেডানের ১০ ম্যাচে ৮ জয়ে পয়েন্ট ১৬। রান রেট ২.২৫১। আবাহনীর সমান ম্যাচে সমান জয় এবং পয়েন্টও সমান, ১৬। রান রেট ১.৮৪৪। পয়েন্ট টেবিলের তিনে থাকা প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের ১০ ম্যাচে ৮ জয়ে পয়েন্ট ১৬। কিন্তু তাদের রান রেট ০.৮৫১। শেষ রাউন্ডে তারা জিতলেও শিরোপা জিততে পারবে না। রানার্সআপ হবে।
চ্যাম্পিয়ন হবে কে? সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। লিগের ১১তম রাউন্ডে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও আবাহনী লিমিটেড মুখোমুখি হবে। এই লড়াইয়ে যারা জিতবে শিরোপার যাবে তাদের ঘরে। সমীকরণ একেবারেই সোজা। দুই দলের এই ম্যাচ অঘোষিত ফাইনালে রূপ নিয়েছে।
আবাহনী আজ রুদ্ধশ্বাস জয় পেয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিরুদ্ধে। আবাহনী আগে ব্যাটিং করতে নেমে ২২১ রানে গুটিয়ে যায়। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গাজী গ্রুপ পথ হারিয়ে ৯ উইকেটে ১৩৬ রান করে। মনে হচ্ছিল আবাহনী জয় সময়ের ব্যবধান মাত্র। কিন্তু দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে মো. রুবেল ও আজিজুল হাকিম রনি ৭৩ রানের জুটি গড়েন।
তাতে আবাহনীর ঘাম ছুটে যায়। তবে তারা লড়াই ছাড়েনি। ৪৫তম আসে কাঙ্খিত সাফল্য। পেসার ইকবাল হোসেন ইমন বোল্ড করেন আজিজুল হাকিমকে। উইকেট থেকে সরে ইনসাইড আউট শট খেলতে গিয়ে বোল্ড হন ৪১ রানে। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের ইনিংস থেমে যায় ২০৯ রানে। ১২ রানের রুদ্ধশ্বাস জয়ে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকায় আবাহনীর উচ্ছ্বাস ছিল বাঁধনহারা।
৬৬ রানের ইনিংস খেলে আবাহনীর নায়ক মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। মোহামেডানকে চমকে দিয়েছে ঢাকা লেপার্ডস। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ছাড়া মাঠে নেমে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি তারা। তারকা ক্রিকেটারদের ছাড়াও মোহামেডান বেশ শক্তিশালী। কিন্তু লেপার্ডসের কাছে হেরে স্রেফ বিধ্বস্ত তারা।
মোহামেডান আগে ব্যাটিং করে ৮ উইকেটে ২২৫ রান করে। লেপার্ডস এই রান ছুঁয়ে ফেলে ৫ উইকেট হাতে রেখে। ৭৭ বল ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৯৩ রানের ইনিংস খেলেন মুমিনুল। এছাড়া জাওয়াদ আবরার ৫ চার ও ৬ ছক্কায় ৩৪ বলে করেন ৬৬ রান। ৩৮ রানে অপরাজিত থাকেন দেবাশীষ।
এর আগে মোহামেডানের ইনিংসে ছিল ব্যর্থতার মিছিল। নাইম শেখ ১৩, এনামুল বিজয় ১, পারভেজ হোসেন ২২, তাইবুর ২৩, আফিফ ৩৯ ও সাইফ উদ্দিন ৩৩ রান করেন। সবচেয়ে বেশি ৬৮ রান করেন মুশফিকুর।
এদিকে প্রাইম ব্যাংক হাত থেকে ফসকে যাওয়া ম্যাচ জিতে আনন্দে আত্মহারা হয়েছে। প্রাইম ব্যাংক আগে ব্যাটিং করে ১৬০ রানে গুটিয়ে যায়। বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সের ইনিংস ছিল আরও দৃষ্টিকটু। ১৪২ রানে অলআউট হয় তারা। ১৮ রানে জয়ের পর সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনে মাঠেই সিজদাহ করেন প্রাইমের ক্রিকেটাররা। ব্যাটিংয়ে ৫৮ ও বোলিং ৩ উইকেট নিয়ে আবু হায়দার প্রাইমের জয়ের নায়ক।