সারা বাংলা

কক্সবাজারে বিজিবির অভিযানে ৬ লাখ ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় তিনটি অভিযানে প্রায় ছয় লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বিজিবি। দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) ও মঙ্গলবার (৯ জুন) উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) পরিচালিত অভিযানে এ সব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।  

লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানান, সোমবার (৮ জুন) সকাল ৭টা ২০ মিনিটে টেকনাফ থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উখিয়ার শীলখালী চেকপোস্টে তল্লাশি করা হয়। অটোরিকশার পেছনের সিটে বসা এক যাত্রীর পকেট থেকে ২৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। 

এ ঘটনায় মাদারীপুর সদর উপজেলার মাদরা গ্রামের বাসিন্দা রশিদ খলিফার ছেলে মো. রাকিবকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি টেকনাফ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে কক্সবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে স্বীকার করেন।

অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম আরো জানান, এ দিন রাত ৮টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ হোয়াইক্যং বিওপির বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৮ সংলগ্ন ক্যারেঙ্গাঘোনা খাল এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে চ্যালেঞ্জ করলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে আটক করে তল্লাশি চালিয়ে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তি টেকনাফের কেরামতলী চাকমারকুল (বটতলা) এলাকার এফডিএমএন সদস্য মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে আবু সৈয়দ (২০)। তিনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে অধিক দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে বহন করছিলেন বলে জানান।

বিজিবির এই কর্মকর্তা আরও জানান, মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোর ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পালংখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল গুজ্জা খাল লক্ষ্মণের ঘের এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় মিয়ানমার থেকে আসা সন্দেহভাজন পাঁচ ব্যক্তিকে দেখতে পেয়ে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা হাতে থাকা পাঁচটি পোটলা ফেলে সীমান্ত অতিক্রম করে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পোটলাগুলোর ভেতর থেকে ৫৫ কার্টনে রাখা ৫ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় অভিযান চালিয়েও সংশ্লিষ্ট কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

বিজিবির উখিয়া ব্যাটালিয়নের এ অধিনায়ক বলেন, তিন অভিযানে ৫ লাখ ৮০ হাজার ২৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক সরবরাহকারী ও চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। 

তিনি আরও বলেন, উদ্ধার করা ইয়াবা ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।