২০১৫ বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ নতুন করে পথ চলতে শুরু করে। যেখানে নিজেদের মাটিতে কিংবা প্রতিপক্ষের ডেরায় বাংলাদেশ চোখে চোখ রেখে লড়াই করে। হারার আগেই হেরে যায় না। চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় প্রতিপক্ষকে জানান দেয়, পঞ্চাশ ওভারের ফরম্যাটটা বাংলাদেশের আয়ত্বে এসে গেছে।
ঘরের মাঠে পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জেতে। আগে থেকেই শ্রীলঙ্কা, নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে এই সাফল্য আছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদের মাটিতে এবং ঘরের মাঠেও সিরিজ হারায় বাংলাদেশ। প্রোটিয়া দূর্গ ভেঙে বাংলাদেশ উড়ায় বিজয়ের পতাকা। ইংল্যান্ডকে প্রায় বাগে পেয়ে বসে। কিন্তু একটুর জন্য পারে না।
বাংলাদেশ অপেক্ষায় ছিল অস্ট্রেলিয়ার। ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া চারবার মুখোমুখি হয়েছে। প্রতিটি বৈশ্বিক আসরে। লম্বা এই সময়ে বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়াতে খেলতে ডাকেনি তারা। অস্ট্রেলিয়াও আসেনি বাংলাদেশে ওয়ানডে খেলতে। ১৫ বছরের অপেক্ষা গতকাল ফুরিয়েছে। এমনভাবে বাংলাদেশ দিনটা রাঙিয়েছে যা কল্পনাকেও হার মানিয়েছে।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে ৮৬ রানে হারিয়ে বাংলাদেশ তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে। ২০০৫ সালের পর বাংলাদেশ ওয়ানডেতে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। ওয়ানডেতে কেবল ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের রেকর্ড নেই বাংলাদেশের। মিরপুরে প্রথম ওয়ানডে জিতে সেই সুযোগটি তৈরি হয়েছে। সুযোগটি হাতছাড়া করতে চান না প্রথম ওয়ানডের নায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম সিরিজ জয়ের অপেক্ষায় তিনি, ‘‘অবশ্যই এটা ঐতিহাসিক জয়। তবে আমি বলবো যে খুব ভালো একটা সুযোগ আছে আমাদের সামনে এই সিরিজটা জেতার মতো। আমরা যদি আমাদের প্রসেসে থাকতে পারি, অবশ্যই সম্ভব এবং সেই বিশ্বাসটা আমি থেকে শুরু করে আমাদের সবার সেই বিশ্বাসটা করতে হবে।’’
প্রথম ওয়ানডেতে চাপ জয় করে ম্যাচ জিতে যাওয়াও খুশি মোসাদ্দেক, ‘‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কখনোই আপনার জন্য সহজ হবে না। পরিস্থিতিগুলো যখন আসবে, একটা চাপ আপনার আপনার কাছে থাকবে। এবং যখন আপনি অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের সাথে খেলবেন, ওরা আসলে সবসময় গোছানো থাকে। ওরা ওদের প্রক্রিয়া থেকে বের হতে চায় না। ঐ জায়গা থেকে আমার কাছে মনে হয় যে আমাদের প্রক্রিয়াও ঠিকঠাক ছিল।’’
চার বছর পর মোসাদ্দেক দলে ফিরেছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্সের দু্যতি ছড়িয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সুযোগ মিলছিল না। বলা হচ্ছিল, দলে অফস্পিন অলরাউন্ডার মিরাজ থাকায় মোসাদ্দেকের সুযোগ মিলছিল না। এখন মিরাজের নেতৃত্বেই মোসাদ্দেকের সুযোগ মিলেছে। বাকিরাও তাকে দিয়েছেন ভালো অনুভূতি, ‘‘আমার পুরো দল থেকে শুরু করে অধিনায়ক সবাই সাপোর্ট করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে যেহেতু আমি এতদিন পরে আসছি, ওরা সবাই মিলে চেয়েছে যেন আমি ঐ অনুভূতিটা কখনোই না পাই যে এতদিন পরে আসছি। দলের সবার প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ।’’