দেহঘড়ি

কীভাবে কমাবেন ডিজিটাল আই স্ট্রেন?

একটানা স্ক্রিনে কাজের পর চোখ লাল, জ্বালাভাবের মতো সমস্যা দেখা দেয়। ‘ডিজিটাল আই স্ট্রেন’ থেকে বাঁচার উপায় বর্তমান কর্মজীবনে দিনের বড় একটি অংশ কেটে যায় কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা মোবাইলের স্ক্রিনের সামনে। অফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজের পর বাড়ি ফিরেই যদি চোখে জ্বালাপোড়া, শুষ্কতা, ভারী ভাব বা লালচে হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়, তবে সেটিকে সাধারণ ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রেই এটি ‘ডিজিটাল আই স্ট্রেন’ বা দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট চোখের চাপের লক্ষণ হতে পারে।

স্ক্রিনের দিকে দীর্ঘক্ষণ একটানা তাকিয়ে থাকলে আমরা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম চোখের পলক ফেলি। ফলে চোখের উপরিভাগে অশ্রুর স্তর সমানভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে না এবং চোখ শুষ্ক হয়ে যায়। একই সঙ্গে চোখের পেশিগুলোও ক্রমাগত কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, যার ফল হিসেবে দেখা দেয় জ্বালাভাব, ঝাপসা দেখা বা চোখে অস্বস্তি।

শুধু স্ক্রিন নয়, অফিসের পরিবেশও এ সমস্যাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। দীর্ঘ সময় এয়ার কন্ডিশনারের হাওয়ায় থাকলে চোখের আর্দ্রতা কমে যায়। এর সঙ্গে ধুলোবালি বা বায়ুদূষণ যুক্ত হলে চোখে জ্বালা ও অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে।এদিকে অনেকেই ব্যস্ততার কারণে পর্যাপ্ত পানি পান করেন না। বিশেষ করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে তৃষ্ণা কম লাগলেও শরীরে ধীরে ধীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়, যার প্রভাব চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতার ওপরও পড়ে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্ক্রিনের ব্লু লাইট। দীর্ঘ সময় ব্লু লাইটের সংস্পর্শে থাকলে চোখে চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে ব্লু লাইট ফিলটার ব্যবহার না করলে বা ঘরের আলোর তুলনায় স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা অনেক বেশি হলে চোখের অস্বস্তি আরও তীব্র হতে পারে।

কীভাবে কমাবেন ডিজিটাল আই স্ট্রেন? চোখকে সুস্থ রাখতে কয়েকটি সহজ অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।

২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলুন: প্রতি ২০ মিনিট পর অন্তত ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন। এতে চোখের পেশি কিছুটা বিশ্রাম পায়। 

বেশি করে চোখের পলক ফেলুন: কাজের ফাঁকে সচেতনভাবে পলক ফেললে চোখের আর্দ্রতা বজায় থাকে। 

পর্যাপ্ত পানি পান করুন: তৃষ্ণা না পেলেও নিয়মিত বিরতিতে পানি খাওয়ার চেষ্টা করুন। 

ব্লু লাইট ফিলটার ব্যবহার করুন: কম্পিউটার বা মোবাইলের ব্লু লাইট ফিলটার চালু রাখুন এবং ঘরের আলোর সঙ্গে স্ক্রিনের উজ্জ্বলতার ভারসাম্য বজায় রাখুন। 

সঠিক দূরত্বে বসুন: স্ক্রিন খুব কাছে বা খুব দূরে রাখলে চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। তাই আরামদায়ক দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। 

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত? সাধারণ বিশ্রাম বা অভ্যাস পরিবর্তনের পরও যদি চোখের জ্বালা, লালভাব, ব্যথা, অতিরিক্ত শুষ্কতা বা ঝাপসা দেখার সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে দেরি না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ এসব উপসর্গ কখনও কখনও অন্য কোনো চোখের সমস্যারও ইঙ্গিত হতে পারে।

প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে স্ক্রিন এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়, তবে সচেতন কিছু অভ্যাস—যেমন নিয়মিত বিরতি নেওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, ব্লু লাইট ফিলটার ব্যবহার এবং সঠিক আলো ও দূরত্ব বজায় রাখা—চোখকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করতে পারে।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন