গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে থাকা ময়লার ভাগাড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শিক্ষার পরিবেশ। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের জানালার ঠিক পাশেই থাকা বর্জ্যের দুর্গন্ধে শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে কাপাসিয়া-শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশের বিদ্যালয়টির দক্ষিণ সীমানা ঘেঁষে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৮০ সালে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারী রয়েছেন। বিদ্যালয়ের পাশে ময়লার ভাগাড় এখন শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাতের আঁধারে বাজারের পচা শাক-সবজি, হোটেলের বাসি খাবার, মুরগির নাড়িভুঁড়ি এবং গৃহস্থালির আবর্জনাসহ নানা ধরনের বর্জ্য দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের পাশে ফেলা হচ্ছে। বিশেষ করে বিদ্যালয়ের অন্তত ১৩টি শ্রেণিকক্ষের জানালার পাশে ময়লার স্তূপ জমে রয়েছে। ফলে ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র দুর্গন্ধ, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার জন্যই অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী আজমল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন সকালে এসে নতুন করে ময়লার স্তূপ দেখতে হয়। কারা রাতের বেলায় এসব বর্জ্য ফেলছে, তা আমরা জানি না। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
শিক্ষার্থীরা জানায়, দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে দীর্ঘ সময় বসে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। গরমের মধ্যে দুর্গন্ধ আরো তীব্র হয়ে ওঠায় অনেকের বমি বমি ভাব হয় এবং পাঠে মনোযোগ ধরে রাখা সম্ভব হয় না।
এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক নজরুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যালয়ের পাশে এভাবে বর্জ্য ফেলা চলতে থাকলে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে। দ্রুত এই ময়লার ভাগাড় অপসারণ করা জরুরি।”
স্থানীয় বাসিন্দা মামুন মিয়া বলেন, “সড়ক দিয়ে চলাচলের সময়ও দুর্গন্ধ সহ্য করা যায় না। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে কীভাবে এমন পরিবেশ সৃষ্টি হলো, তা ভাবতেই অবাক লাগে।”
বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, একদিন হঠাৎ করেই বিদ্যালয়ের পাশে বর্জ্য ফেলা শুরু হয়। কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, “দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছি।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল আরিফ সরকার বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।”
কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না তাসনীম বলেন, “অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত ময়লা অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”