বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) চতুর্দশতম বারের মতো উদযাপিত হলো বিশ্ব দুগ্ধ দিবস–২০২৬। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘দুগ্ধশিল্পে নারী কৃষকদের অবদান উদযাপন’। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের আটটি বিদ্যালয়ের প্রায় আড়াই হাজার শিশুকে দুধ পান করানো হয়। একইসঙ্গে দুগ্ধশিল্পে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রথমবারের মতো দুই নারী উদ্যোক্তাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) বাকৃবির ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও দুগ্ধশিল্প সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সহযোগিতায় দিনব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
দিনের শুরুতে সকাল ১০টায় অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি অনুষদের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, দুগ্ধ খামারি ও বিভিন্ন পেশাজীবী অংশ নেন। র্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে গিয়ে শেষ হয়।
পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। বিকেলে ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয় সচেতনতামূলক সেমিনার ও ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশিকুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক জি. এম. মুজিবুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশুপালন অনুষদের ডিন অধ্যাপক. মো. রুহুল আমিন, ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুর রহমান, মিল্ক ভিটার চেয়ারম্যান এস এম আমির হামজা শাতিল, প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াস মৃধা এবং নেসলে বাংলাদেশের রেগুলেটরি অ্যান্ড সায়েন্টিফিক অ্যাফেয়ার্সের প্রধান রেবেকা শারমিন।
আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এম. এ. সামাদ খান, অধ্যাপক মো. নুরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক মো. আবুল হাশেম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উদ্যাপন কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক এ. কে. এম. মাসুম।
‘প্রান্তিক খামারির স্বীকৃতি পাওয়াই বড় পাওয়া’
অনুষ্ঠানে সম্মাননা পাওয়া নারী উদ্যোক্তা উম্মে আতিয়া বলেন, “প্রায় ছয় বছর ধরে বগুড়ায় তিনি নিজস্ব উদ্যোগে দুগ্ধজাত পণ্যের কারখানা পরিচালনা করছেন। প্রতিদিন ১০ থেকে ১৪ মণ দুধ থেকে মিষ্টি, ছানা ও দই তৈরি করা হয় তাদের কারখানায়।” তিনি জানান, খামারিদের কাছ থেকে সরাসরি দুধ সংগ্রহ করে তা পাস্তুরিত করে পণ্য তৈরি করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথমবারের মতো এভাবে সম্মাননা পাওয়া তার জন্য বড় অনুপ্রেরণা।
অন্যদিকে, সম্মাননা পাওয়া খামারি জনি আক্তার জানান, তিনি ১৫টি গরু পালন করেন এবং প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। গরুর দেখাশোনা থেকে শুরু করে দুধ দোহন ও বিক্রি—সবই তিনি নিজ হাতে করেন। প্রান্তিক খামারি হয়েও এমন স্বীকৃতি পাওয়াকে তিনি জীবনের বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন।
‘নারীর অবদান ছাড়া অগ্রগতি সম্ভব নয়’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক জি. এম. মুজিবুর রহমান বলেন, “ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের এমন আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্বের বিষয়। এতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী; তাদের অবদান ছাড়া কোনোভাবেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।“ দুগ্ধশিল্পে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রান্তিক খামারিদের প্রতি আরো গুরুত্ব দিতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শিশুদের অংশগ্রহণে রঙিন আয়োজন
দিবসটি উপলক্ষে আগের দিন শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং হোম কিচেন ডেইরি রেসিপি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।