রাজনীতি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ভারতীয় মন্ত্রীদের বক্তব্যের মতোই শোনাচ্ছে: আযাদ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ভারতীয় মন্ত্রীদের বক্তব্যের মতো শোনাচ্ছে। সরকার দেশের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে ভিনদেশের স্বার্থ চরিতার্থ করছে।

বুধবার (১০ জুন) রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালায়ে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সীমান্ত ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‌‌‌‘‘প্রতিবেশী রাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে প্রতিবেশীর মতো আচরণ করছে না। কোনো দেশের মানুষকে সীমান্তে সরাসরি গুলি করে হত্যার বিধান নেই, এটি মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। গত তিন মাসে দেশের বিভিন্ন সীমান্তে অর্ধশতাধিক পুশইনের ঘটনা ঘটেছে এবং দেড় হাজারেরও বেশিবার পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং দেশপ্রেমিক জনগণের যৌথ ভূমিকার কারণে বড় ধরনের বিপর্যয় রুখে দেয়া সম্ভব হয়েছে।’’

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘‘গত তিন মাসে সারা দেশে মোট ফৌজদারি মামলার সংখ্যা ৫১ হাজার ছাড়িয়েছে। বিএনপি এরই মধ্যে নিজেদের দলের ১৮ জন নেতাকর্মীকে খুন করেছে। এমনকি জামায়াতেরও ৪ জনকে খুন করা হয়েছে। সরকারের নীরবতাই প্রমাণ করে তারা এসব ঘটনার মদতদাতা।’’

‘‘সরকারের ১০০ দিনের দেশ পরিচালনায় জনগণের অধিকার, নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। সরকার এখন অতীতের ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ পরিচালনা করছে। এই সরকার যে আসলে কোনো সংস্কার চায় না, তা ধাপে ধাপে প্রমাণিত হচ্ছে।’’

১১ দলীয় ঐক্যের এই সমন্বয়ক বলেন, ‘‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জাতির সংস্কারের যে প্রত্যাশা ছিল, তা সম্পূর্ণ বিনষ্ট করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা এবং বিএনপির কেউ কেউ জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণ হতে দেয়নি। বিএনপি জনগণের রায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংস্কারের শপথ লঙ্ঘন করেছে। অথচ বিরোধী দল হিসেবে আমরা দুটি শপথই রক্ষা করেছিলাম।’’

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সীমান্তের শূন্যরেখায় পুশইনের শিকার মানুষেরা বর্তমানে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। সেখানে সরকারের ভূমিকা একেবারেই অপ্রতুল।

এসময় তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নতজানু ভূমিকা থেকে সরে এসে দেশের স্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান।  

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সরকারের একের পর এক গণবিরোধী সিদ্ধান্তে জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। এই পরিস্থিতি ও সীমান্ত আগ্রাসনের প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় অবিলম্বে বাংলাদেশে পুশইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যজোট আগামী ১২ জুন দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে প্রতিবাদ সভা করবে। এরপর ১৫ জুন একযোগে চট্টগ্রামে সমাবেশ এবং রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করবে জোট।