জাতীয়

মাদার ভেসেল চলাচলে বাধা কমাবে বে-টার্মিনাল: নৌপরিবহনমন্ত্রী

আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল চালু হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেন, “টার্মিনালটি চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়বে এবং মাদার ভেসেল প্রবেশে জোয়ার-ভাটার নির্ভরতা ও নাব্য সংকট অনেকাংশে দূর হবে। এর ফলে বন্দরের সামগ্রিক জট নিরসন সহজ হবে।”

বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের গড় সময় কত ছিল, কলম্বো ও সিঙ্গাপুর বন্দরের তুলনায় টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম বেশি হওয়ার কারণ কী এবং বে-টার্মিনাল ও পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল কবে পুরোপুরি চালু হবে।

জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, “২০২৪-২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজের গড় টার্নঅ্যারাউন্ড সময় ছিল ২ দশমিক ৫৮ দিন।”

তিনি বলেন,“কলম্বো ও সিঙ্গাপুর মূলত ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্ট। সেখানে বড় জাহাজ থেকে কনটেইনার নামিয়ে অন্য জাহাজে স্থানান্তর করা হয়। কাস্টমস পরীক্ষা ও ক্লিয়ারেন্সের মতো কার্যক্রমের প্রয়োজন না হওয়ায় তাদের টার্নঅ্যারাউন্ড সময় কম থাকে।”

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বন্দর একটি ফিডার পোর্ট হওয়ায় এখানে আমদানি-রপ্তানি কনটেইনারের কাস্টমস পরীক্ষা, ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয়। এ কারণে ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্টগুলোর তুলনায় সময় কিছুটা বেশি লাগে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দরে ট্রান্সশিপমেন্ট কনটেইনারের পরিমাণ খুবই কম। বন্দরে পরিচালিত প্রায় সব কনটেইনারই দেশের আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট।”

মন্ত্রী জানান, বন্দরে জাহাজ ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম আরো দক্ষ করতে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে টার্নঅ্যারাউন্ড সময় ইতোমধ্যে কমেছে এবং ভবিষ্যতে আরো কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।