বর্তমানের আধুনিক ফুটবল ১৯শ শতকের মাঝামাঝি ইংল্যান্ডে গড়ে উঠলেও, এর আদিম রূপ বিশ্বের বিভিন্ন সভ্যতায় অনেক আগে থেকেই প্রচলিত ছিল। প্রায় ৩ হাজার বছর আগে মেসোআমেরিকায় অ্যাজটেকদের মধ্যে টচাটালি নামে বলের একটি দলগত খেলা জনপ্রিয় ছিল, যা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গেও জড়িত ছিল।
খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় ও দ্বিতীয় শতাব্দীতে চীনে কুজু নামে পায়ে বল লাথি মেরে খেলার প্রচলন দেখা যায়। পরে এর একটি রূপ জাপানে কেমারি নামে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাচীন গ্রিস ও রোমেও বিভিন্ন ধরনের বল খেলা ছিল। রোমানদের হার্পাস্টাম নামের খেলা ব্রিটেনে পৌঁছায় এবং পরবর্তী সময়ে সেখানকার খেলাধুলার ওপর প্রভাব ফেলে।
১২শ শতকের ইংল্যান্ডে ফুটবলসদৃশ খেলা রাস্তাঘাট ও খোলা মাঠে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে সেগুলো ছিল অত্যন্ত রুক্ষ ও সহিংস, যেখানে লাথির পাশাপাশি হাত দিয়েও বল আঘাত করা হতো। একই ধরনের খেলা ইতালির ফ্লোরেন্সে ক্যালসিও (Calcio) নামে পরিচিত ছিল। অতিরিক্ত সহিংসতার কারণে বিভিন্ন সময়ে এসব খেলা নিষিদ্ধও করা হয়।
শেষ পর্যন্ত ১৯শ শতকের মাঝামাঝি ইংল্যান্ডে নিয়ম-কানুন নির্ধারণের মাধ্যমে আধুনিক ফুটবলের ভিত্তি গড়ে ওঠে এবং ধীরে ধীরে এটি রাগবি থেকে আলাদা একটি স্বতন্ত্র খেলায় পরিণত হয়। সংক্ষেপে বলা যায়, আধুনিক ফুটবলের জন্ম ইংল্যান্ডে হলেও এর শিকড় ছড়িয়ে আছে প্রাচীন মেসোআমেরিকা, চীন, গ্রিস ও রোমের নানা বল খেলার ঐতিহ্যের মধ্যে।