২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা জিডিপির ২ শতাংশ। বিদায়ী অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা মুদ্রামানে ৮৭ হাজার ২০৫ কোটি টাকা।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, “সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে শিক্ষা খাতে ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ করা হবে।”
এ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে বাজেট বরাদ্দ হয়েছে ৫৭ হাজার ৩০২ কোটি টাকা। প্রাথমিকে ৪৬ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা। কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা।
মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সরকার নতুন ঋণ কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। এর আওতায় শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ পাবেন।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, “বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতার জন্য দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন জরুরি। বিদেশে উচ্চ শিক্ষার ব্যয় বেশি হওয়ায় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়েন। এই বাধা দূর করতেই এ উদ্যোগ।”
প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় বিদেশি ভাষায় দক্ষ শিক্ষার্থীরা ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফরাসি ও জার্মান ভাষা শেখার বিশেষ কোর্স চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
শিক্ষা ঋণের সুদের হার তুলনামূলকভাবে কম রাখা হবে এবং পড়াশোনা শেষে চাকরিতে প্রবেশের পর তা পরিশোধের সুযোগ থাকবে। কোনো ধরনের প্রশাসনিক হয়রানি ছাড়াই এই সুবিধা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।
প্রস্তাবিত বাজেটে ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা এসেছে। স্কুল–কলেজে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব‘ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি হাই-স্পিড ওয়াই-ফাই সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা উপকরণ ও অনলাইন কোর্সে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।