দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রমে নিয়োজিত দুটি শ্রমিক সংগঠন অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। আগামী রবিবার (১৪ মে) কর্মবিরতি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
এতে বেনাপোল বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কর্মবিরতি আহ্বানকারী শ্রমিক সংগঠন দুটি হলো— বেনাপোল স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়ন এবং বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন। সংগঠনগুলোর নেতারা বুধবার বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে একটি লিখিত আবেদনপত্র জমা দেন। বেনাপোল বন্দরের পরিচালকের মাধ্যমে আবেদনটি পাঠানো হয়েছে।
আবেদনপত্রে শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়োগপ্রাপ্ত ঠিকাদার গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে তাদের সংগঠনের সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তি, সমন্বয় কিংবা কার্যকর যোগাযোগ রক্ষা করেননি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।
তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাগুলোর সমাধান না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে কর্মবিরতির মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।
বেনাপোল স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাকসুদুর রহমান রিন্টু এবং বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী জানিয়েছেন, আগেও কয়েকবার কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে, বন্দর পরিচালকের আশ্বাসে সেসব কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।
তারা জানান, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কোনো কার্যকর সমাধান না আসায় আগামী রবিবার থেকে বন্দরে শ্রমিকদের মাধ্যমে পরিচালিত সব ধরনের পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে।
বন্দর-সংশ্লিষ্টদের মতে, কর্মবিরতি কার্যকর হলে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর বেনাপোলের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। এর ফলে ভারত-বাংলাদেশ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন এবং সরবরাহ ব্যবস্থায়ও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন জানিয়েছেন, দুই শ্রমিক ইউনিয়নের বিভিন্ন দাবিসম্বলিত আবেদনপত্র বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “আশা করছি, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং সমস্যার সমাধান হবে।”