রাজনীতি

ঘাটতি বাজেটের চাপ শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরই পড়বে: সাইফুল হক

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, “নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের সামর্থ্যের মধ্যে জনপ্রত্যাশা পূরণের আংশিক প্রচেষ্টা দেখা গেলেও এর বড় ঘাটতির বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই পড়বে।”

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর রাতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাইফুল হক বলেন, “প্রস্তাবিত বাজেটে সমাজের বিভিন্ন অংশকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা রয়েছে। তবে, বিশাল অঙ্কের ঘাটতি বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।” 

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “ঘাটতি পূরণে সরকারের ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা আরো বাড়তে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।”

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির এই নেতা বলেন, “টাকার অঙ্কে বাজেটের আকারে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। কারণ বাজেট বাস্তবায়নের সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপর।” তবে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং রাজস্ব সংগ্রহে দক্ষতা নিশ্চিত করা গেলে এ লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিবৃতিতে সাইফুল হক বিদ্যমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় জিডিপি প্রবৃদ্ধির ৬ দশমিক ৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রাকে খুব বেশি উচ্চাভিলাষী নয় বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যকে বাস্তবসম্মত বলে আখ্যায়িত করেন।

তিনি বলেন, “মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে না পারলে প্রবৃদ্ধির কোনো হিসাবই সাধারণ মানুষের কল্যাণে কার্যকর হবে না।” তার মতে, মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা করাই আগামী অর্থবছরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।