বিনোদন

সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা দিলেন আদনান আল রাজীব

ছোটপর্দা, বিজ্ঞাপন ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে নিজের মেধা ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখে দর্শকদের মন জয় করেছেন নির্মাতা আদনান আল রাজীব। এবার পা রাখতে যাচ্ছেন চলচ্চিত্রে। দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ করে প্রথমবারের মতো পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন জনপ্রিয় এই নির্মাতা। 

শুক্রবার (১২ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া আবেগঘন এক পোস্টে সিনেমা নির্মাণের খবরটি জানান রাজীব। পোস্টে তিনি তুলে ধরেন স্বপ্ন, অপেক্ষা আর নিজের গল্প খুঁজে ফেরার দীর্ঘ যাত্রার কথা। 

আদনান আল রাজীব লিখেছেন, “অ্যাডভারটাইজিং ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুর দিকে একটা প্রেমের গল্প বানিয়েছিলাম ‘কাছে আসার গল্প’। সেই সময়ের হিসাবে ওটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় হিট। সেখান থেকেই মনের ভেতর একটা স্বপ্ন জন্মেছিল, কোনো একদিন একটা প্রেমের সিনেমা বানাব।” 

স্বপ্নের সেই বীজ সময়ের সঙ্গে বড় হয়েছে। তা উল্লেখ করে আদনান আল রাজীব বলেন, “স্বপ্নেরও বয়স বাড়ে। দেখতে দেখতে অনেক বছর কেটে গেল। এর মধ্যে অনেক গল্প বলেছি। অনেক চরিত্র এসেছে, আবার চলে গেছে। কিন্তু নিজের মতো করে একটা প্রেমের গল্প খুঁজে ফিরেছি সব সময়। এমন একটা গল্প, যেটা সত্যি আমার।” 

নিজের কাঙ্ক্ষিত গল্প খুঁজে পাওয়ার অভিজ্ঞতাও কাব্যিক ভাষায় তুলে ধরেন আদনান আল রাজীব। এই নির্মাতা লিখেছেন, “গল্পগুলো অনেকটা ভালোবাসার মানুষের মতো। কেউ কেউ হঠাৎ এসে দরজায় কড়া নাড়ে। কেউ আসে না। দূরে বসে থাকে। ডাকলেও আসে না। আমার গল্পটাও তেমন ছিল। চুপচাপ বসে ছিল। আমিও চুপচাপ তার পাশে বসেছিলাম। লিখেছি। কেটেছি। আবার লিখেছি। কখনো মনে হয়েছে পেয়ে গেছি। পরে বুঝেছি পাইনি।” 

দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে সেই গল্পকে নিজের নাগালে পেয়েছেন বলেও জানান আদনান আল রাজীব। তিনি লেখেন, “হঠাৎ একদিন খেয়াল করলাম, গল্পটা আর দূরে বসে নেই। ধীরে ধীরে আমার পাশে এসে বসেছে। গল্পটা এখন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। আমার জীবনের প্রথম সিনেমা বানাতে যাচ্ছি। দেখা হবে সিনেমা হলে।” 

তবে আদনান আল রাজীব তার অভিষেক চলচ্চিত্রের নাম যেমন ঘোষণা করেননি, তেমনই অভিনয়শিল্পীদের বিষয়েও কিছু জানাননি। তবে নির্মাতার এই ঘোষণা ইতোমধ্যে চলচ্চিত্র ও নাট্যাঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। কারণ, গত বছর তার নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আলী’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য নতুন এক ইতিহাস রচনা করে।  

আদনান আল রাজীবের হাত ধরেই প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি চলচ্চিত্র কান চলচ্চিত্র উৎসবের স্বল্পদৈর্ঘ্য বিভাগে জায়গা করে নেয়। শুধু অংশগ্রহণই নয়, চলচ্চিত্রটি বিশেষ স্বীকৃতিও অর্জন করে। পরবর্তীতে বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা ও পুরস্কার লাভ করে ‘আলী’।