সারা বাংলা

বৃষ্টিতে ভিজে প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় কক্সবাজারবাসী

সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি। কোথাও গুঁড়িগুঁড়ি, কোথাও ঝুম বর্ষণ। তবুও থেমে নেই মানুষের অপেক্ষা। ছাতা, রেইনকোট কিংবা ভেজা কাপড় গায়ে নিয়েই কক্সবাজারের বিভিন্ন প্রান্তে বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য।

শনিবার (১৩ জুন) দিনব্যাপী সফরে কক্সবাজারে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার সফরকে ঘিরে জেলার সর্বত্র উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা, রাজনৈতিক জনসভা এবং সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন তিনি।

সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হচ্ছে পিএমখালীর ঐতিহাসিক পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন। ১৯৭৯ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল দিয়ে এ খালের খননকাজ শুরু করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতির ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন এবং সেখানে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখবেন

কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুলিয়া এলাকার বাসিন্দা আজিম খান বলেন, “সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে, কিন্তু মানুষের আগ্রহ কমেনি। আমরা দীর্ঘদিন ধরে পাতলী খাল পুনঃখননের অপেক্ষায় আছি। প্রধানমন্ত্রী নিজে এসে উদ্বোধন করবেন, এটা আমাদের জন্য বড় আনন্দের বিষয়। তাই বৃষ্টিতে ভিজেও প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করার জন্য অধীর আগ্রহে বসে আছি।”

স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, “বৃষ্টি থাকলেও মানুষ ঘর থেকে বের হয়েছে। কারণ প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের সঙ্গে এলাকার উন্নয়ন জড়িত। খালটি পুনঃখনন হলে কৃষি ও জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে।” পাতলী খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে অন্তত দুই লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি ‘জিয়া স্মৃতি পার্ক’ নির্মাণের দাবিও উঠেছে।

সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করবেন এবং সংরক্ষিত বনে সরকারের আগামী পাঁচ বছরের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী দেশব্যাপী একযোগে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

চকরিয়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী উম্মি আক্তার বলেন, “পরিবেশ রক্ষায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার থেকে এ কর্মসূচির সূচনা করবেন, এটা আমাদের জন্য গর্বের।”

প্রধানমন্ত্রী পেকুয়ায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বীর শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। একই সঙ্গে নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা এবং মাতামুহুরী উপজেলা ও থানার উদ্বোধন করবেন।

পেকুয়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ রিদুয়ান বলেন, “শহীদ ওয়াসিমের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রীর আগমন আমাদের আবেগাপ্লুত করেছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করেও মানুষ তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।”

বিকেলে চকরিয়া উপজেলা বাস টার্মিনাল মাঠে আয়োজিত রাজনৈতিক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।

চকরিয়া পৌর এলাকার বাসিন্দা নুরুল হাসান বলেন, “বৃষ্টির কারণে কিছুটা ভোগান্তি হচ্ছে, কিন্তু মানুষের ঢল থামেনি। সবাই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় আছে।”

জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ ও সমুদ্রসৈকত পরিদর্শন করবেন। পরে সন্ধ্যায় জেলার বিশিষ্ট নাগরিক ও পেশাজীবীদের সঙ্গে সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি কর্মসূচি সফল ও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ও শেষ হয়েছে।

আজ শনিবার (১৩ জুন) সকালে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।