সারা বাংলা

বরগুনায় ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ জনের মরদেহ উদ্ধার 

বরগুনায় ২৪ ঘণ্টায় পৃথক স্থান থেকে দুই নারীসহ পাঁচ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

শনিবার (১৩ জুন) সকালে বরগুনা সদর, পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলা থেকে চারজন এবং শুক্রবার রাতে সদরের পাতাকাটা থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

পুলিশ জানায়, আজ সকাল সাতটার দিকে সদরের লেমুয়া এলাকার কিসলু মিয়ার স্ত্রী কনা বেগমের (৩৪) ঝুলন্ত মরদেহ তার নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। এসময় মরদেহের পাশ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করে পুলিশ। সেখানে আত্মহত্যার কারণ হিসেবে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের কথা উল্লেখ রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।  

এর কিছু সময় পর সকাল ১০টার দিকে নলী এলাকার নিজ বাসা থেকে ৯৩ বছরের বৃদ্ধা সালেহা বেগমের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে স্বজনরা পুলিশকে জানালে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।  

এদিকে শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে বরগুনার বামনার কলাগাছিয়া এলাকায় চাচার বাসা থেকে আবির হোসেন (১৭) নামে এক কলেজ ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

এছাড়া শনিবার ভোর ৬টার দিকে পাথরঘাটার পৌর শহরের ইমান আলি সড়ক এলাকার নিজ বাসার সামনে থেকে রিকশাচালক মিজানুর রহমানের (৪৫) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত মিজানুর পাথরঘাটা পৌরসভার ২ নাম্বার ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মৃত সফেজ উদ্দিনের ছেলে।

নিহতের পরিবারের স্বজনরা জানান, শুক্রবার রাতে নিজ বাসায় রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন মিজানুর। শনিবার ভোরে স্থানীয়রা রাস্তার পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় সদরের বদরখালী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে জখম করার জেরে পাতাকাটা এলাকায় গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী কালু ওরফে ইব্রাহিম ওরফে বস্তি কালু নিহত হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠায়। কালুর নামে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ১৪টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।  

বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল আলীম জানান, শনিবার সকালে দুই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গতকাল শুক্রবার গণধোলাইয়ে নিহত এক চিহ্নিত সন্ত্রাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান আছে বলেও জানান তিনি।

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। 

বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, আমরা যখন লাশ উদ্ধার করেছি, তখন নিহত আবির হোসেনের কানে হেডফোন ছিল। আমরা তার মুঠোফোন জব্দ করেছি। বাকিটা তদন্ত করে বলা যাবে।