দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস তাদের অভিষেকের ১৩ বছর পূর্ণ করেছে। ২০১৩ সালের ১৩ জুন যাত্রা শুরু করা দলটি এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে। এ উপলক্ষে ১৩ জুন বুসানে বিশেষ পরিবেশনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে সদস্যদের।
তবে, একটি কারণে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ভক্তদের কাছে আরো বিশেষ। সামরিক দায়িত্ব শেষ করে আবারো এক হয়েছেন বিটিএস সদস্যরা। পুনর্মিলনের পর ‘আরিরাং’ শিরোনামে নতুন অ্যালবাম নিয়ে ফিরছে দলটি, যা তাদের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন ভক্তরা। এটি সামরিক বিরতির পর বিটিএসের প্রথম অ্যালবাম।
গত ১৩ বছরে বিটিএসের সাফল্যের তালিকা দীর্ঘ। বিলিয়ন বিলিয়ন স্ট্রিম, বিশ্বজুড়ে হাউসফুল স্টেডিয়াম কনসার্ট, বিলবোর্ডে একের পর এক রেকর্ড এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে টিকিট শেষ হয়ে যাওয়া বিশ্ব সফর; সব মিলিয়ে তারা বিশ্বের অন্যতম সফল সংগীতদলে পরিণত হয়েছে।
বিটিএসের প্রভাব শুধু রেকর্ড বা পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়। তাদের গান, বক্তব্য এবং জীবনের নানা অভিজ্ঞতা কোটি ভক্তকে অনুপ্রাণিত করেছে। এ কারণেই অনেকের কাছে বিটিএস শুধু একটি ব্যান্ড নয়, বরং জীবনের পথচলার অনুপ্রেরণা।
তাদের গানে বার বার উঠে এসেছে আত্মবিশ্বাস, আত্মমর্যাদা এবং নিজেকে ভালোবাসার বার্তা। সাফল্য-ব্যর্থতার গল্প, ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটে চলার কথা বলেই তারা ভক্তদের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি করেছে।
২০১৩ সালে ‘নো মোর ড্রিম’ গান দিয়ে আত্মপ্রকাশের সময় বিটিএস শুধু গান শোনাতে আসেনি, তরুণদের সামনে তাদের স্বপ্ন ও লক্ষ্য নিয়ে ভাবার একটি প্রশ্নও ছুড়ে দিয়েছিল। সেই যাত্রা ১৩ বছর পর এসে বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক প্রভাবের এক অনন্য উদাহরণে পরিণত হয়েছে।
ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কোটি ভক্তের কাছে বিটিএস শুধু একটি সংগীতদল নয়, অনুপ্রেরণারও নাম। তাদের গান ও বার্তা অনেককে নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটতে, নিজের দুর্বলতাকে গ্রহণ করতে এবং নিজেকে ভালোবাসতে সাহস জুগিয়েছে। আর নতুন অ্যালবাম ‘আরিরাং’-এর মাধ্যমে বিটিএস এবার তাদের যাত্রার নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে।