ইরানের সঙ্গে আজ রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি সই হবে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তি সইয়ের পরপরই হরমুজ প্রণালি ‘সবার জন্য উন্মুক্ত’ হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, চুক্তি সইয়ের সময় নিয়ে সংশয় প্রকাশ ও ভিন্ন অবস্থানের কথা জানিয়েছে ইরান। খবর আল-জাজিরার।
স্থানীয় সময় শনিবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, চুক্তিটি আগামীকাল (রবিবার) সই হওয়ার কথা রয়েছে। আর সই হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালি সবার জন্য খুলে দেওয়া হবে।
চুক্তি মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা পাকিস্তানও গতকাল জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে এবং তারা ‘ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি’ নিচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা যোগ দেবেন। সেখানে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করবে না এবং দেশটির সরকার আর এমন অস্ত্র চায় না। তিনি আরও জানান, এই পর্যায়ে ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত ফিরিয়ে নেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, যথাযথ সময়ে, যখন সবকিছু শান্ত হবে, তখন আমরা সেখানে গিয়ে গভীরে সমাহিত পারমাণবিক ধুলাবালি উদ্ধার করবো। এ সময় তিনি ইরানের কাছে থাকা শত শত কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।
ভবিষ্যতে ইরান ও সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশার কথাও জানান ট্রাম্প। একইসঙ্গে সতর্ক করে তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজভাবে সম্পন্ন না হলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘চূড়ান্ত বিকল্প’ রয়েছে, যা তিনি আবার ব্যবহার করতে চান না।
ট্রাম্পের মন্তব্যের আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই চুক্তি সইয়ের সময় নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছিলেন, “সমঝোতা স্মারক সইয়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ জানতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তবে এটি আগামীকাল (রবিবার) হচ্ছে না।”
তিনি আরো বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে অপর পক্ষের অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিধার কারণে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।