বাংলাদেশে ব্রাজিল ভক্তের অভাব নেই। এই দলের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শনে ভক্তদের নানা প্রচেষ্টাও চোখে পড়ার মতো। ব্রাজিলের দীর্ঘ গৌরবময় ইতিহাসের কারণেই ভক্তদের এত ভালোবাসা অর্জন সম্ভব হয়েছে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটির আরেকটি বিশেষ পরিচয় হলো—টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে খুব কমই তারা হোঁচট খায়।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে উদ্বোধনী ম্যাচে সেলেসাওদের নামের পাশে জয়ই ছিল সবচেয়ে পরিচিত ফলাফল। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ ড্র নতুন করে আলোচনায় এনেছে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচের ইতিহাসকে।
১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপে যুগোস্লাভিয়ার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে শুরু করেছিল ব্রাজিল। এরপর ১৯৩৪ সালে স্পেনের কাছেও হেরে যায় তারা। কিন্তু এরপর গল্প বদলে যায়, তৈরি হয় নতুন ইতিহাস। ১৯৩৮ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আর কখনও হারেনি ব্রাজিল। এই দীর্ঘ ধারাবাহিকতা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম উল্লেখযোগ্য রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।
মাঝে কয়েকবার ড্রও করেছে ব্রাজিল। এর মধ্যে ১৯৭৮ বিশ্বকাপে সুইডেনের সঙ্গে ১-১ সমতা ছিল বিশেষভাবে স্মরণীয়। এরপর দীর্ঘ ৪০ বছর উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ধারা বজায় রাখে। ২০১৮ সালে আবারও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ ড্র করে তারা।
২০২৬ সালে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ ড্র সেই তালিকায় যুক্ত হলো নতুন অধ্যায় হিসেবে। ম্যাচে আগে গোল হজম করেও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোলে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির বিশ্বকাপ অভিষেক জয় দিয়ে শুরু না হলেও, উদ্বোধনী ম্যাচে অপরাজিত থাকার ঐতিহ্য ধরে রাখতে পেরেছে দলটি।
ব্রাজিলের পাঁচটি বিশ্বকাপজয়ী অভিযানের প্রতিটিতেই তারা প্রথম ম্যাচ জিতেছিল। ফলে অনেক পরিসংখ্যানপ্রেমীর কাছে প্রথম ম্যাচে জয়কে ব্রাজিলের শুভ লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়। যদিও ইতিহাস সব সময় ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না, তবু এই পরিসংখ্যান সমর্থকদের আলোচনায় বারবার ফিরে আসে।
সূত্র: রয়টার্স, উইকিপিডিয়া