জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী পুলিশ, দুদক ও বিচার বিভাগে সংস্কার না হলে জনগণের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধ হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ সংস্কারের অভাবেই সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
শনিবার (১৩ জুন) বিকালে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় মহাসমাবেশে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, “গতকালও চট্টগ্রামে জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এটি প্রমাণ করে যে পুলিশি ব্যবস্থায় এখনো কাঙ্ক্ষিত সংস্কার হয়নি। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে পুলিশ বাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।”
তিনি বলেন, “সরকার যদি আবার স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের পথে হাঁটে, তাহলে জনগণও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে নতুন করে গণ-আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবে।”
প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের কঠোর সমালোচনা করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, “সরকার চায় আমরা বাজেটের প্রশংসা করি। কিন্তু এই বাজেটে দুর্নীতি, লুটপাট, ঋণখেলাপি ও ব্যাংক দখলের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। জনগণের অর্থ কোথায় ব্যয় হবে এবং কত টাকা দলীয় নেতাকর্মীদের পকেটে যাবে, তার কোনো স্বচ্ছ হিসাবও নেই। এই বাজেট বাস্তবায়ন করতে বিপুল পরিমাণ বিদেশি ঋণ নিতে হবে। সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া অর্থনীতির সংকট কাটানো সম্ভব নয়।”
ব্যাংকিং খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “দেশে আবার ব্যাংক দখলের সংস্কৃতি ফিরে আসছে। ইসলামী ব্যাংককে পুনরায় এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জনগণের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জনগণ কোনো ধরনের দখলদারি মেনে নেবে না।”
সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, “ভারত থেকে নতুন হাইকমিশনার আসার পরও সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, সীমান্তে কাঁটাতার ও গুলির মাধ্যমে বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠা করা যায় না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আপস হবে না। ১৯৪৭, ১৯৭১ এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশে কোনো আধিপত্যবাদী শক্তি দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না।”
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, ‘‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও নারী নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরও কঠোর ভূমিকা নিতে হবে।’’
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, আমার বাংলাদেশ পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম এবং ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদসহ জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা।
সমাবেশে নেতারা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক সংস্কার, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এবং গণভোটের রায় অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি জানান।