জাতীয়

বাংলাদেশের এইচএসসি সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির সমান 

দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণে বাংলাদেশে শিক্ষার মান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। 

তিনি বলেছেন, “আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) স্তরের শিক্ষাকে সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার সমমান হিসেবে বিবেচনা করা হয় বলে আলোচনা রয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে সরকার শিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।”

রবিবার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বাজেট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং এবারই এ খাতে সর্বাধিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষা খাতে জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ ব্যয় করা হলেও ভবিষ্যতে তা ধাপে ধাপে ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, “অতীতের নীতিগত ব্যর্থতার কারণে শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতায় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে পাঠ্যক্রম আধুনিকীকরণ, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের উন্নয়ন এবং শিক্ষা অবকাঠামো সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকার।”

তিনি জানান, প্রাথমিক স্তরের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে পাঠ্যক্রমের অংশ করা হবে। এ উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, সৃজনশীল ও মুক্তচিন্তার বিকাশে সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিমন্ত্রীর মতে, ভবিষ্যতের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনশীলতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের বিকল্প নেই। তাই, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো আধুনিক ও বিশ্বমানের করে তুলতে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

বাজেটের অর্থনৈতিক দিক তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এটি একটি সম্ভাবনাময় ও উন্নয়নমুখী বাজেট। সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশ এবং বন্ধ বা দুর্বল শিল্পকারখানা পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে জাতীয় আয় বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।” 

শিক্ষা খাতের উন্নয়নে গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে সব পক্ষকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।