ভারত সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের পরিচয় ঘিরে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার কর্মী কিরীটী রায়। তার দাবি, যাদের বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তাদের পরিচয়, তালিকা এবং সীমান্তে পৌঁছনোর প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো বহু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।
তার মতে, যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সত্যিই বাংলাদেশের নাগরিক হন, তাহলে তাদের নাম ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করা উচিত। এতে গোটা বিষয়টি আরো স্বচ্ছ হবে।
কিরীটী রায় প্রশ্ন তোলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত—কেরল, পাঞ্জাব বা অন্য রাজ্য—থেকে মানুষ কীভাবে নির্দিষ্ট দিনে সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছে যাচ্ছেন? অনেক ক্ষেত্রে যে সীমান্ত পয়েন্টগুলির কথা সামনে আসছে, সেখানে সরাসরি রেল বা সরকারি বাস পরিষেবাও নেই। ফলে ওই ব্যক্তিরা কীভাবে নির্দিষ্ট সময়ে ওইসব স্থানে পৌঁছাচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “সীমান্তে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা বহু ক্ষেত্রে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে পারছেন না। ছবি প্রকাশিত হলেও নাম বা পূর্ণ পরিচয় সামনে আসছে না। কেন এই তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
কিরীটী রায়ের বক্তব্য, সীমান্তবর্তী এলাকায় যে ঘটনাগুলো ঘটছে, সেগুলো সম্পর্কে আরো তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক সমাজে দৃশ্যমান ঘটনাকে প্রশ্ন করা এবং তার পেছনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানার অধিকার নাগরিকদের রয়েছে।
যদিও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার, সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
একই বিষয় নিয়ে পররাষ্ট্র বিশেষজ্ঞ, লেখক ও সাংবাদিক সুবীর ভৌমিক বলেছেন, “যারা সাধারণ মানুষ, কোনো অপরাধমূলক কাজে সঙ্গে যুক্ত নয় তাদের এই সীমান্ত পারাপারে যদি প্রাণ চলে যায় তা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত যে সমাধান সূত্র রয়েছে তা যেন অবলম্বন করা হয় । তা না হলে যেভাবে উত্তেজনা বাড়ছে তাতে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে যুদ্ধের সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে । তাই কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা উচিত।”