জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটের ওপর আলোচনার সময় নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।
তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে অধিবেশন কক্ষে প্রতিবাদ ও হট্টগোলের সৃষ্টি হলে শেষ পর্যন্ত বিতর্কিত অংশ সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
রবিবার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি অতীতের একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক ও পর্দা বিষয়ে মন্তব্য করেন, যা উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়।
তার বক্তব্যের পর সরকারি ও বিরোধী—উভয় পক্ষের সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদে সরব হয়। অনেক সদস্য নিজ নিজ আসন থেকে দাঁড়িয়ে আপত্তি জানালে অধিবেশন কক্ষে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করেন অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তিনি সংসদ সদস্যদের শালীনতা ও মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বক্তব্যে দায়িত্বশীলতা থাকা প্রয়োজন এবং কারো ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে মন্তব্য করার সুযোগ সংসদে নেই।
পরবর্তীতে ডেপুটি স্পিকার মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের আপত্তিকর অংশ সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার নির্দেশ দেন।
ঘটনার পর মনিরুল হক চৌধুরী সংসদে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তার বক্তব্যের কোনো শব্দ বা মন্তব্যে কারো আত্মসম্মানে আঘাত লেগে থাকলে তিনি তা প্রত্যাহার করতে চান।
এর আগে বাজেট আলোচনায় তিনি সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন।