জাতীয় সংসদে হিজাব ও নারীদের পোশাক নিয়ে সংসদ সদস্য মনিরুল হকের করা মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা।
রবিবার (১৪ জুন) রাত ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বর থেকে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে বটতলায় এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এর আগে রাত ১০ টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্রশিবির বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।
বিক্ষোভ চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা ‘হিজাব নারীর অধিকার; কেড়ে নেওয়ার সাধ্য কার", ‘হিজাব নিকাবের অপমান; সইবে নারে মুসলমান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
সমাবেশে জাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, “হিজাব, নিকাব ও বোরকা বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সংস্কৃতি, ধর্মীয় পরিচয় ও মর্যাদাবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হকের নারীর পোশাক নিয়ে করা মন্তব্যকে আমরা অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও অসম্মানজনক বলে মনে করি এবং এর তীব্র নিন্দা জানাই।”
তিনি আরো বলেন, “কোনো নারীকে তার পোশাকের কারণে হেয় বা কটাক্ষ করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। একইসঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়েও আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি। আমরা দাবি জানাই, অবিলম্বে এ ধরনের বক্তব্য প্রত্যাহার করে জনসমক্ষে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব জায়গায় নারী শিক্ষার্থীদের পোশাক ও ব্যক্তিগত পছন্দকে সম্মান করার সংস্কৃতি নিশ্চিত করতে হবে।”
সমাবেশে জাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকেই আওয়ামী লীগ ভারত থেকে ইসলামবিদ্বেষ আমদানি করেছে। সেই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতিই আজ বিএনপিতে এসে দলটিকে ইসলামবিদ্বেষী করে তুলেছে। আজ জাতীয় সংসদে বাজেট-পরবর্তী প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অথচ সীমান্তে চলমান পুশ-ইন সংকট এবং পূর্ব-নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা বাতিল করা হয়েছে। বাজেটের দুর্বলতা, সীমান্তের অস্থিরতা এবং বিভিন্ন জাতীয় ইস্যু থেকে জনগণের দৃষ্টি সরানোর জন্যই পরিকল্পিতভাবে সংসদের মতো জায়গায় নারীদের হিজাব, বোরকা ও পর্দাকে অবমাননার চেষ্টা করা হয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক বলেছেন, তারা কারা, আমি তাদের চিনি না। কিন্তু আমরা বলতে চাই, আগস্টের পর বিএনপির নেতারা যে রাজনৈতিক অধিকার ও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, সেই সংগ্রামে হিজাব পরিহিত অসংখ্য নারীও রাজপথে নেমেছেন, মিছিলে অংশ নিয়েছেন এবং আন্দোলনে সাহসী ভূমিকা রেখেছেন। ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে, মুসলমানদের করের টাকায় পরিচালিত সংসদে দাঁড়িয়ে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুশীলন, হিজাব, বোরকা ও পর্দা নিয়ে কটাক্ষ করা বা অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”
অবিলম্বে এ ধরনের বক্তব্য প্রত্যাহার করে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার জোর দাবি জানান শিবির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান।