অর্থনীতি

আগের মালিকদের কাছে ইসলামী ব্যাংক ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি

ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম ব্যানারে আন্দোলনকারী গ্রাহকেরা। এজন্য মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে একটি স্মারকলিপি দেবে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটির নেতারা।

সোমবার (১৫ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম নেতারা এই কর্মসূচির কথা জানিয়েছেন। ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান সংগঠনের আহ্বায়ক নুর উন নবী।

নূর উন নবী বলেন, “দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংককে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা, মালিকানা ও গ্রাহকের স্বার্থ–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাবি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে আমরা স্মারক লিপি প্রেরণ করব।”

“২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তনের সময় যেসব শেয়ার আগের মালিকদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল, তা প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে,” বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ব্যাংকটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি আরো যেসব দাবি তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে আছে অনতিবিলম্বে সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন।

এছাড়া ব্যাংক খাতে লুটপাট ও অনিয়মের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, ইসলামী ব্যাংকগুলোকে ঘিরে আতঙ্ক ও গুজব সৃষ্টির প্রচেষ্টা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে ব্যাংকের দায় পরিশোধ করার দাবিও জানানো হয়েছে।

সংগঠনের নেতারা বলেন, ব্যাংক নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব হলো আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এ অবস্থায় ব্যাংকটির স্থিতিশীলতা রক্ষায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির পক্ষ হতে বলা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংকের কোটি কোটি গ্রাহকের আমানত ও স্বার্থের সঙ্গে দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা জড়িত। তাই ব্যাংকটিকে ঘিরে উদ্ভূত সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

২০১৭ সালের ইসলামী ব্যাংক নিয়ন্ত্রণে নেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ হারায় গ্রুপটি।

এরপর থেকে ইসলামী ব্যাংকে চেয়ারম্যানসহ পাঁচ পরিচালক বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ করা স্বতন্ত্র পরিচালক ছিলেন। গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন।

পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক ও নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। যা নিয়ে শুরু হয় অচলাবস্থা।

যার জের ধরে রবিবার (১৪ জুন) রাতে চেয়ারম্যানসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদে বাতিল করে দিয়ে দায়িত্ব নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।