জাতীয়

সরকারি ব্যয়ে নিয়ন্ত্রণের অভাব, সম্পূরক বাজেটই তার প্রমাণ: নজরুল

জাতীয় সংসদে আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ ও মিতব্যয়িতার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলের সংসদ সদস্য জিএম নজরুল ইসলাম।

সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় তিনি বলেন, “বাজেট প্রণয়নের সময় প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে নির্দিষ্ট বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেই সীমার মধ্যে ব্যয় সীমাবদ্ধ রাখতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রতিটি টাকা সঠিকভাবে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যয় করা গেলে আজ জনগণের ট্যাক্সের অর্থ থেকে অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়ার প্রয়োজন হতো না।”

জিএম নজরুল ইসলাম বলেন, “এই অতিরিক্ত বরাদ্দের চাহিদাই প্রমাণ করে সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় কোনো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও মিতব্যয়িতা নেই।”

তিনি অভিযোগ করেন, “দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ যখন চরম সংকটে, তখন সরকার সংসদে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ চাইছে, অথচ বাজার নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই।”

তিনি বলেন, “চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বাজারে সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বাড়লেও সরকার কার্যকরভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।”

সংসদ সদস্য প্রশ্ন তোলেন, “অতিরিক্ত বরাদ্দের যে অর্থ চাওয়া হচ্ছে তার কত অংশ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব ও বাজার মনিটরিংয়ে ব্যয় হবে, আর কত অংশ কেবল প্রশাসনিক খাতে সীমাবদ্ধ থাকবে?” তিনি আরো বলেন, “অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে সরকারের উচিত ছিল মিতব্যয়িতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা। কিন্তু তা না করে বরং বারবার বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে, যা জনগণের ওপর ঋণের চাপ আরো বাড়াচ্ছে।”

আলোচনার শেষে তিনি সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।