আন্তর্জাতিক

ইউক্রেনকে সমৃদ্ধ ইউরোনিয়াম দিচ্ছে যুক্তরাজ্য

ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা ‘এনারগোঅ্যাটম’-কে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরবরাহ করবে যুক্তরাজ্য। ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিডকে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে ২১০ মিলিয়ন পাউন্ড (২৮০ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের এই চুক্তির কথা ঘোষণা করেছে ব্রিটিশ সরকার। 

সোমবার (১৫ জুন) লন্ডন জানিয়েছে, ব্রিটিশ এক্সপোর্ট ফাইন্যান্সের অর্থায়নে এই চুক্তির ফলে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউরেনকো আগামী দুই বছরের জন্য এনারগোঅ্যাটমকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরবরাহ করতে পারবে। গত সপ্তাহে ডাউনিং স্ট্রিটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যকার বৈঠকে এই চুক্তিটি অনুমাদিত হয়। 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটি। 

ব্রিটিশ সরকারের দাবি, এই চুক্তির উদ্দেশ্যে- ইউক্রেনের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ করা এবং দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, লন্ডন ইউক্রেনকে ‘যতদিন প্রয়োজন’ সমর্থন দিয়ে যাবে।  

রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির তথ্যমতে, চুক্তিটি এমন এক সময়ে হলো যখন ইউক্রেনের জ্বালানি খাত এবং খোদ ‘এনারগোঅ্যাটম’-এর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পশ্চিমা সমর্থিত দুর্নীতি দমন সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে এই সংস্থায় বেশ কিছু আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে।

তাছাড়া, ইউক্রেনের পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে মস্কোর বারবার সতর্কবার্তা দেওয়ার মধ্যেই এই চুক্তিটি সম্পন্ন হলো। রাশিয়ার অভিযোগ, কিয়েভ ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক কেন্দ্র ‘জাপোরোজিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে’ একাধিকবার হামলা চালিয়েছে, যা ২০২২ সালের মার্চ থেকে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে, একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ষষ্ঠ পাওয়ার ইউনিটের মেশিন হলে আঘাত হানে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএ এই ক্ষয়ক্ষতির কথা নিশ্চিত করলেও, হামলার জন্য নির্দিষ্ট কাউকে দায়ী করেনি।

যুক্তরাজ্যের এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরবরাহের পরিকল্পনাটি, ইউক্রেনের পরমাণু-মুক্ত অবস্থান পুনর্বিবেচনার বারবার দেওয়া ইঙ্গিতগুলোকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে পারে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে, জেলেনস্কি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ইউক্রেন তার পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতাগুলো পুনর্বিবেচনা করতে পারে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে জেলেনস্কি বলেছিলেন, তিনি যুক্তরাজ্য বা ফ্রান্সের কাছ থেকে ‘আনন্দের সঙ্গে’ পারমাণবিক অস্ত্র গ্রহণ করবেন, তবে একই সঙ্গে তিনি এটিও স্পষ্ট করেন যে, এমন কোনো প্রস্তাব এখনো করা হয়নি।

মস্কোর অভিযোগ, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স ইউক্রেনকে এমন কিছু উপাদান বা প্রযুক্তি দেওয়ার কথা ভাবছে যা কিয়েভকে পারমাণবিক অস্ত্র বা তেজস্ক্রিয় ‘ডার্টি বোম’ তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে। তবে পশ্চিমা উভয় সরকারই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।