শরীরে ক্লান্তি অনুভব হলেই মনে হতে থাকে, একটু ঘুমানো প্রয়োজন। কারণ ঘুম ক্লান্তি দূর করে। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম শুধু ক্লান্তি দূর করে না, এটি মস্তিষ্ক, হৃদ্যন্ত্র, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে অন্তত ৭ ঘণ্টা বা তার বেশি ঘুমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি বাড়ায় ঘুমের সময় মস্তিষ্ক সারাদিনের তথ্য প্রক্রিয়াজাত করতে পারে এবং স্মৃতি সংরক্ষণে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত ঘুম মনোযোগ, শেখার ক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা উন্নত করে। অন্যদিকে ঘুমের ঘাটতি মনোযোগ কমিয়ে দেয় এবং ভুল করার ঝুঁকি বাড়ায়।
হৃদ্যন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে নিয়মিত ভালো ঘুম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্সংক্রান্ত সমস্যার সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে ঘুমের সময় শরীর নিজেকে মেরামত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখে। ফলে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার সক্ষমতা বাড়ে এবং অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি কমতে পারে।
মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে পর্যাপ্ত ঘুম মানসিক চাপ কমাতে, মেজাজ স্থিতিশীল রাখতে এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। দীর্ঘদিন ঘুমের অভাব উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং খিটখিটে মেজাজের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
ওজন ও বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে ভালো ঘুম ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ঘুম কম হলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে, যা ওজন বৃদ্ধি এবং টাইপ–২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ায় ভালো ঘুমের পর মানুষ সাধারণত বেশি সতর্ক, মনোযোগী এবং দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারে। বিপরীতে ঘুমের ঘাটতি সড়ক দুর্ঘটনা, কর্মক্ষেত্রে ভুল এবং প্রতিক্রিয়ার সময় ধীর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
শরীরের পুনর্গঠন ও শক্তি পুনরুদ্ধারে সহায়ক ঘুমের সময় শরীরে বিভিন্ন মেরামত প্রক্রিয়া চলে। পেশি পুনর্গঠন, শক্তি পুনরুদ্ধার এবং বিপাকীয় কার্যক্রমের ভারসাম্য রক্ষায় ঘুম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ভালো ঘুমের জন্য কিছু সহজ অভ্যাস
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া শোয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে মোবাইল বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা বিকেল বা রাতে অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা ঘুমের পরিবেশ শান্ত, অন্ধকার ও আরামদায়ক রাখা নিয়মিত শরীরচর্চা করা, তবে ঘুমানোর ঠিক আগে নয়মোটকথা ভালো ঘুম কোনো বিলাসিতা নয়; এটি সুস্থ জীবনের অন্যতম ভিত্তি। এজন্য সুস্থ থাকতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের পাশাপাশি ভালো ঘুমকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সূত্র: সেন্ট্রাল ডিজিজ কনন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন, এনআইসিএইচডি