ইরানের আইআরজিসি কুদস ফোর্সের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কানি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যুদ্ধ ‘যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণভাবে কলঙ্কিত করেছে’ এবং ইসরায়েলি শাসনের ‘পতনকে’ ত্বরান্বিত করেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইরানি গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কানি এই মন্তব্য করেন। খবর জর্ডানের সংবাদমাধ্যম রোয়া নিউজের।
কুদস ফোর্সের প্রধান বলেন, “তীব্র সামরিক চাপ, হামলা এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পরেও অঞ্চলের একটি প্রতিরোধ গোষ্ঠীও যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে যায়নি। প্রতিরোধ যোদ্ধাদের এই অনড় অবস্থান ও অবিচ্ছিন্ন উপস্থিতি ইরানের শক্রপক্ষকে চরমভাবে আতঙ্কিত ও বিপর্যস্ত করে তুলেছে বলে তিনি যুক্তি দেন।
আঞ্চলিক প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর স্বায়ত্তশাসনের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি নির্দেশনা বা আদেশ ছাড়াই গোষ্ঠীগুলো ইরানের সমর্থনে স্বপ্রণোদিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল।
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ভবিষ্যৎ নিয়ে পশ্চিমা ও ইসরায়েলি গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে কুদস ফোর্সের প্রধান বলেন, “হিজবুল্লাহকে নির্মূল বা ভেঙে দেওয়া অসম্ভব। এই সংগঠনটি লেবাননের সমাজের খুব গভীরে প্রোথিত।”
তিনি আরো সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা জনসমক্ষে যা দেখা গেছে তার চেয়েও অনেক বেশি। এ পর্যন্ত দলটির শক্তির যে রূপ দেখা গেছে, তা ছিল কেবল ‘হিমশৈলের চূড়ামাত্র।”
কুদস ফোর্সের প্রধান বাব আল-মান্দাব প্রণালিকে ইরানপন্থি শক্তিগুলোর জন্য একটি কৌশলগত সুবিধা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, সংঘাতের সময় মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ওই এলাকা দিয়ে যাতায়াত এড়িয়ে চলেছে।
তিনি সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় জড়িত ইরানি কূটনীতিকদেরও প্রশংসা করেন। জেনারেল কানি বলেন, লেবাননের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী প্রমাণ করে যে ইরানের সামরিক ও কূটনৈতিক- উভয় পক্ষই একই লক্ষ্য অর্জনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।