ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করা এবং ট্রাম্প প্রশাসনকে উসকানি দেওয়ার নীতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জন্য চরম ব্যর্থতা নিয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক বিশ্লেষণে তিনি দাবি করেন, তেহরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের যে মূল লক্ষ্য ইসরায়েলের ছিল, তা কেবল ব্যর্থই হয়নি বরং পুরো প্রক্রিয়াটি উল্টো ফল দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে গত প্রায় ৪৭ বছর ধরে ইরানকে নিজেদের প্রধান শত্রু মনে করে আসছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কোনো যৌক্তিকতা না থাকলেও, নেতানিয়াহুর নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডার কারণে ইসরায়েলের কাছে এর বিশেষ গুরুত্ব ছিল।
নেতানিয়াহু নিজেকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে দাবি করেন যিনি ইরানকে অন্য যেকোনো ব্যক্তির চেয়ে বেশি দানবীয় হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, তিনিই যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের বিরুদ্ধে এক ধরনের শত্রুতা তৈরি করেছেন। এমন নয় যে যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই শত্রুভাবাপন্ন ছিল না, তবে এটা স্পষ্ট যে নেতানিয়াহুই ট্রাম্পকে প্ররোচিত করে এই যুদ্ধের দিকে টেনে নিয়ে গেছেন।
কিন্তু এই যুদ্ধংদেহী নীতি কোনো ইতিবাচক ফল আনতে পারেনি। মারওয়ান বিশারা আরো বলেন, নেতানিয়াহুর মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানো। কিন্তু তা তো হয়ইনি, বরং এটি উল্টো ফল দিয়েছে। বর্তমান শাসনব্যবস্থা আগের মতো নেই ঠিকই, কিন্তু সেই পরিবর্তন কারো জন্যই ভালো কিছু বয়ে আনেনি।
আল-জাজিরার এই রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আগের মতোই অটুট রয়েছে। একইসঙ্গে ইরান এই অঞ্চলে তার বিভিন্ন মিত্র শক্তির কাছে আগের মতোই শক্তিশালী সহযোগী হিসেবে টিকে আছে। সুতরাং, নেতানিয়াহুর জন্য এটি কাজ করেনি। আর ঠিক এই কারণেই তিনি বর্তমান ওয়াশিংটন-তেহরান চুক্তিটি নস্যাৎ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। কারণ তার দৃষ্টিতে, তারা যুদ্ধে জড়িয়েও এর ঘোষিত কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি।
মারওয়ান বিশারা উল্লেখ করেন, ইসরায়েল একদম শূন্যবিন্দুতে ফিরে এসেছে। অন্যদিকে ইরান পারস্য উপসাগরসহ পুরো অঞ্চলে আরো বেশি শক্তিশালী ও সাহসী হয়ে উঠেছে। এটি কৌশলগতভাবে ইসরায়েলের জন্য একটি বড় পরাজয়।।