আন্তর্জাতিক

‘শুধু মানুষ নয়, বাংলাদেশ থেকে রাজনৈতিক দলেরও অনুপ্রবেশ ঘটেছে’

হাতেগুনে ২০ জনের রাজনৈতিক দলটির সাধারণ সদস্য নেই। কখনো ন্যূনতম গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্বাচনে জয় লাভের রেকর্ড নেই। কিন্তু সেই রাজনৈতিক দলের রয়েছে ২০ জন সংসদ সদস্য! এই সংখ্যাও আগামী কয়েক দিনে বেড়ে ২৫ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। গত রবিবার ভারতের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’(এনপিসি-আই)। রবিবার (১৪ জুন) তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে এই দলটিতে মিশে গিয়েছে মমতার সংসদীয় দলের দুই-তৃতীয়াংশ। 

ভারতীয় এই এনসিপিআই দলটিকে বাংলাদেশি বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। 

বাংলাদেশে জামায়াতের জোটসঙ্গী ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি বা এনসিপির সঙ্গে নামের মিল থাকায় অধীর রঞ্জন চৌধুরী সাংবাদিক সম্মেলন করে দাবি করেন ভারতের এই ‘এনসিপি-আই দলটির জন্ম আসলে বাংলাদেশে।’

অধীরের বক্তব্য, “বিধানসভার নির্বাচনী প্রচারে পশ্চিমবঙ্গে এসে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারে বারে বাংলাদেশ থেকে ‘ঘুষপেটিয়া’ ইস্যুতে সরব হয়েছেন। তবে এখন দেখছি বাংলাদেশ থেকে শুধু মানুষ আসেনি, দলও(রাজনৈতিক দল) অনুপ্রবেশ করে চলে এসেছে।” 

নাম না করে ভারতের এই এনসিপিআই-কে কার্যত বাংলাদেশের এনসিপি র শাখা সংগঠন বলে  মন্তব্য করেছেন অধীর।

তিনি বলেছেন, “এই দলের জন্ম বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময়। এখন সেই দলই দিল্লি পৌঁছে গেল। অমিত শাহের সাবধান হওয়া উচিত। কারণ, শুধু মানুষ নয় রাজনৈতিক দলও অনুপ্রবেশ করে এই দেশে ঢুকে পড়ছে। তবে ওই রাজনৈতিক দলকে আমি ‘ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ বলতে রাজি নই। ‘সিটিজেন্স’-এর পরিবর্তে ‘চিটিজেন্স’ ব্যবহার করা উচিত। তারা মানুষকে ‘চিট’ করেছে।”

লোকসভার সাবেক এই বিরোধী দলনেতা আরো বলেন, “মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে যারা ওই রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন তারা জানেন না, আগামী তিন বছর পর তৃণমূল থাকবে কিনা বা থাকলেও সেখানে তারা টিকিট পাবেন কিনা। তাই আগামী তিন বছর আরামে থাকা খাওয়ার জন্যই তারা ওই দলে যোগ দিয়েছেন। তিন বছর পর যদি বিজেপির দয়া হয় তাহলে আবার তারা টিকিট পাবেন। তাই এখন থেকে বিজেপির পায়ে তেল মালিশ শুরু করেছেন। টাকা, প্রলোভন, ভয় এবং সরকারি দলের ক্ষমতা ভোগ করার জন্য কিছু লোক দল বদল করে বাংলার নাম খারাপ করছেন।”

প্রসঙ্গত, সংখ্যা তত্ত্বের বিচারে এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে সর্ববৃহৎ সংসদীয় রাজনৈতিক দল এনসিপিআই। পশ্চিমবঙ্গে তাদের ২০টি আসন রয়েছে। বিজেপির ১২টি, তৃণমূল কংগ্রেসের আটটি, কংগ্রেসের একটি আসন রয়েছে। 

ত্রিপুরা কেন্দ্রীক এই রাজনৈতিক দলটির অস্তিত্বের কথা এতদিন গোটা দেশের দূরে থাক কত ত্রিপুরার মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন লোকের জানা ছিল। মাত্র তিন বছর আগে যাত্রা শুরু হওয়া রাজনৈতিক দলটিতে গত রবিবার তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সংসদ সদস্য এই দলে যোগ দেওয়ায় সংসদে মমতার দল ভেঙে খানখান যায়, রীতিমতো উত্তাল হয়ে উঠে পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের রাজনীতি।